বিএনপিকে সমাবেশ করতে না দিলে আওয়ামী লীগও কোথাও সমাবেশ করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে বিএনপিকে নাকি দেশের কোথাও সভা সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। আমি হানিফ সাহেবকে বলতে চাই—বাংলাদেশের মালিকানা কী আপনারা মৌরসিপাট্টা (চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত) করে নিয়েছেন? আমরা দৃঢ়কন্ঠে বলতে চাই, বিএনপির সমাবেশে বাধা দিলে আওয়ামী লীগও দেশের কোথাও নির্বিঘ্নে সমাবেশ করতে পারবে না। জনগণের সম্মিলিত শক্তিতে তা প্রতিহত করা হবে।’

গতকাল মধ্যরাতে যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে তাঁর লালমাটিয়ার বাসা থেকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘সরকার নাকি কোনকিছুতেই ভয় করছে না, খুব স্বস্তিতে আছে বলে দম্ভোক্তি করছে। অথচ দেশব্যািপ এই গ্রেপ্তার অভিযান কেন? কারণ এই অবৈধ সরকার কচুপাতার পানির মতো অবস্থান করছে। আন্দোলনের সামান্য আওয়াজেই পতনের ভয়ে টলমল করতে থাকে। সেজন্যই নির্দয় দমন-পীড়নের পু​েরানো কৌশলই অবলম্বন করে চলছেন। ’

রিজভী দাবি করেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার জনগণের সঙ্গে মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ব্ল্যাকমেইলিং করে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেছে। তারপর থেকে এ দেশকে তাঁরা ঘাতকের চারণভূমিতে পরিণত করেছে। পেশিশক্তি ও জিহ্বার ধার দিয়ে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী দুঃশাসনের রক্তাক্ত থাবা বিস্তার করেছেন বলেও অভিমত তাঁর। অবিলম্বে মোয়াজ্জেম হোসেনের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন তিনি।

রাজধানীর শাহজাহানপুরে কলোনী মৈত্রী সংঘ মাঠের কাছে পানির পাম্পের পাইপের মধ্যে চার বছরের শিশু জিহাদ পড়ে যাওয়ার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিদের বক্তব্য শুধু বিভ্রান্তিকরই নয় বরং উদ্ধারপ্রচেষ্টা লোক দেখানো বলে মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘উদ্ধার প্রচেষ্টায় সরকাির শৈথিল্য দেখে মনে হয় সরকার শিশুটিকে বাঁচাতে আন্তরিক ছিল না।’

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন