বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে শনিবার গণ-অনশন কর্মসূচির পর গতকাল ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিএনপি। শনিবারের গণ-অনশনে চার জেলায় লাঠিপেটা ও হামলার ঘটনা ঘটে। গতকালের সমাবেশে ছয় জেলা—নাটোর, খুলনা, বরিশাল, বরগুনা, সুনামগঞ্জ ও সাতক্ষীরায় কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা ও লাঠিপেটা করেছে বলে প্রথম আলোর সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাঁর বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে কর্মসূচি যত আসছে, বাধা ও সংঘর্ষের ঘটনাও তত বাড়ছে।

গতকাল প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে কাকরাইল মোড়ে নেতা-কর্মীদের লাঠিপেটা করে পুলিশ। এতে অন্তত তিনজন আহত হন।

default-image

নাটোর শহরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকালেই পুলিশ ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে পুলিশের লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপে সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। লাঠিপেটায় নাটোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রুহুল কুদ্দুস তালুকদারের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, দৈনিক যুগান্তর-এর নাটোর প্রতিনিধি শহিদুল হক সরকারসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। পুলিশ সন্ধ্যা পর্যন্ত বিএনপির ১০ নেতা-কর্মীকে আটক করে।

পুলিশের বাধা ও লাঠিপেটায় খুলনার সমাবেশও পণ্ড হয়ে যায়। লাঠিপেটায় পাঁচ সাংবাদিক ছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির এজাজ খানসহ ৫০ জন আহত হন। এ সময় দৈনিক জন্মভূমির ফটোসাংবাদিক দেবব্রত রায়, সময় টেলিভিশনের আবদুল হালিম, যমুনা টেলিভিশনের আমির সোহেল, প্রথম আলোর সাদ্দাম হোসেন ও এসএ টিভির মোহাম্মদ ইব্রাহিমও আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করেছে।

আহত বিএনপির নেতা নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ সকাল থেকেই বিএনপির কার্যালয় ঘিরে রাখে। এরপর নেতা-কর্মীদের ওপর তিন দফায় হামলা করে।

default-image

অবশ্য খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মাসুদুর রহমান ভূঞা প্রথম আলোকে বলেন, তাদের (বিএনপি) দলীয় কার্যালয়ের বাইরে কর্মসূচি পালন করার অনুমতি ছিল না। কিন্তু তারা রাস্তায় চলে এসে বিক্ষোভ কর্মসূচি করেছে।

বরিশালে বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ করলে পুলিশ নেতা-কর্মীদের ধাওয়া ও লাঠিপেটা করে। বরগুনায় সমাবেশ থেকে দলের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের ওপর হামলার মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত শনিবার বরগুনায় গণ-অনশন কর্মসূচি থেকে ছয়জনকে আটক করেছিল পুলিশ।

৭৬ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি। পরিবারের পক্ষ থেকেও এ পর্যন্ত পাঁচবার সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। সাড়া না পেয়ে গত শনিবার নতুন করে কর্মসূচি শুরু করে বিএনপি। দলটি বলছে, ১৩ নভেম্বর থেকে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন। এই মুহূর্তে তিনি লিভারে প্রচণ্ড জটিলতায় ভুগছেন। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিন ধরে আথ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতা রয়েছে।

গতকাল ঢাকার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের সামনে এখন আর কোনো পথ খোলা নেই। আমাদের সামনে একটাই পথ, আন্দোলন, আন্দোলন আর আন্দোলন। এ আন্দোলনকে তীব্র করে সামনের দিকে আরও বেগবান করতে হবে।’

আগামীকাল বুধবার স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি ঘোষণা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই হচ্ছে আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি। যদি তারপরও দেশনেত্রীকে মুক্তি দেওয়া না হয়, আরও কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচির দিকে আমরা এগিয়ে যাব।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির, শামসুর রহমান (শিমুল বিশ্বাস), শামা ওবায়েদ, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, শিরিন সুলতানা, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভূঁইয়া, কৃষক দলের হাসান জাফির, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান প্রমুখ।

সমাবেশে যোগ দিতে নেতা-কর্মীরা সকাল থেকেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তা ও ফুটপাতে জড়ো হতে থাকেন। তাঁরা ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘খালেদা জিয়ার কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন