চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব নিরসন করার জন্য ২০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১১ মার্চ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মমিনুল হক এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান।
আগামী দুই মাসের মধ্যে কমিটিকে কাজ শেষ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বলেন, মমিনুল হকের উদ্যোগে দুই পক্ষের মধ্যে চলা দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব মেটাতে ২০ জন জ্যেষ্ঠ নেতাকে নিয়ে এ কমিটি করা হয়েছে।
উপজেলা ও পৌর বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির প্রতিষ্ঠার পর হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তিতে বিএনপির মূল কাণ্ডারী ছিলেন সাবেক সাংসদ এম এ মতিন। ২০০৩ সালে জেলা বিএনপির তৎকালীন অর্থবিষয়ক সম্পাদক মমিনুল হকের সঙ্গে এম এ মতিনের দলীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। সেই থেকে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তিতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মতিন ও মমিনুলপক্ষে ভাগ হয়ে যান। উভয় পক্ষ দলীয় কর্মসূচি পৃথকভাবে পালন করে।
দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে মমিনুল হককে দলের মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি হেরে যান। পরে মমিনুল হক জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। তখন মতিনপক্ষের নেতা-কর্মীরা হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তির রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। ২০১৫ সালের প্রথম দিকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদকে আহ্বায়ক করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ফরিদ আহমেদ আহ্বায়ক হওয়ার পর হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তির দলীয় কমিটি ভেঙে দেন। মতিন অনুসারীদের দিয়ে ফরিদ আহমেদ হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার মারামারি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য গঠিত কমিটির সদস্য ও মমিনুলপক্ষের উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান বলেন, সামনের জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মতিনপক্ষের উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আলমগীর কবির পাটওয়ারী দ্বন্দ্ব নিরসন কমিটির একজন সদস্য। তিনি বলেন, দুই পক্ষকে একত্র করার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। মমিনুলপক্ষের লোকজন এখনো তাঁদের (মতিনপক্ষের) সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তাঁরা এ বিষয়ে নিজেদের পক্ষের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
এ বিষয়ে মমিনুল হক বলেন, উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কারও কারণে ঐক্য না হলে তাঁকে দায়ী করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। দলের নেতা-কর্মীদের সামনে এ প্রতিবেদন তুলে ধরা হবে।
এম এ মতিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও এ ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন