বিএনপি সন্ত্রাস ছেড়ে মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে শান্তিপূর্ণ মিছিল-সমাবেশ করতে চাইলে কেউ বাধা দেবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম। গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে ১৪ দলের বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উদ্দেশে নাসিম বলেন, ‘ক্ষমা চেয়ে গণতন্ত্রের পথে আসুন। শান্তিপূর্ণ মিছিল করুন। কেউ বাধা দেবে না। নির্বাচন চাইলে ২০১৯ সালে হবে, সেটা শেখ হাসিনার অধীনেই হবে। আপনাদের সঙ্গে সংলাপের কোনো প্রশ্নই আসে না। খুনির সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়।’ একসময় বিএনপি আত্মসমর্পণ করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া এখন জঙ্গি নেত্রী, মানুষ মারার নেত্রী। আমরা যখন আন্দোলন করতাম, তখন রাজপথে নির্যাতিত হয়েছি, নিজেরা মার খেয়েছি। মানুষের ওপর নির্যাতন করিনি। আজকে মানুষের ওপর নির্যাতন করছে বিএনপি। বিএনপি নেতারা মাঠে নেই। অথচ বার্ন ইউনিট মানুষের কান্নায় ভরে গেছে। হরতালের নামে গাড়ি ও মানুষকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে।’
সমাবেশে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, সংলাপ এখন খারাপ শব্দ হয়ে গেছে। ১/১১ সময়ে যাঁরা সংলাপের কথা বলেছেন, তাঁদের লক্ষ্য ছিল দুই নেত্রীকে সরিয়ে দেওয়া। আজকেও সেই সংলাপেরই কথা উঠেছে। এটা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার ষড়যন্ত্র। পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে পারবেন না।
মেনন বলেন, বিএনপি রাজনীতির মাঠে হেরে গিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তি আর বুদ্ধিজীবীদের মাঠে নামিয়েছে। যারা বিশেষ সময়ে সুবিধা লোটে, তারা বিশেষ সুবিধাভোগী। তারা এখন সংলাপের কথা বলে। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ছেড়ে গণতন্ত্রের পথে এলেই আপনাদের (বিএনপি) সঙ্গে আলোচনা সম্ভব হতে পারে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ, গণতন্ত্রী পার্টির শাহাদাৎ হোসেন প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন