ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে এর আগে ১৯ জুন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম দফার মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া ১০টি দলের মধ্যে ৮টিই ইভিএমের বিরোধিতা ও অনাস্থার কথা বলেছে। দুটি দল ইভিএমের পক্ষে-বিপক্ষে কিছু বলেনি। ওই সভা বর্জন করেছিল তিনটি দল।
আজকের সভায় অংশ নেওয়া দলগুলো হলো ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, খেলাফত মজলিস ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)।

সভায় ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ইভিএম নিয়ে অনেক প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। ফিঙ্গার প্রিন্ট দেওয়ার কিছুদিন পর ভোট দিতে গেলে তা মেলে না। ইভিএমের পাশাপাশি সিল দেওয়ার ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব দেন তিনি।

ইভিএম নিয়ে সন্দেহের কথা জানান জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। আর ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সাংগঠনিক সচিব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সন্দেহ পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়েই। তিনি ‘ইভিএমে একজনের বাটন আরেকজন টিপে দেয়’ বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের স্বাদ কেমন ও কী কী, তা আমরা গ্রহণ করেছি। একজন প্রার্থী হিসেবে এর বিষক্রিয়া শরীরে এখনো বিদ্যমান।’

সভার শেষ পর্যায়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল দলগুলোর উদ্দেশে বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে আপনাদের পুরোপুরি আস্থা আসছে না। এর আগে ১৩টি দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তাদের মধ্যে ১০টি দল এসেছে। আমরা কিন্তু বক্তব্য শুনছি। এরপর আরও ১৩টি দল আসবে। তারাও এভাবে মত দেবে। আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। সবার মতামত না নিয়ে এবং না বুঝে সিদ্ধান্ত নেব না।’ তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি যে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে ইভিএমের অপব্যবহারের অভিযোগ পাইনি।’

সভায় সিইসির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান, রাশেদা সুলতানা ও মো. আলমগীর অংশ নেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দিন, সেনাকল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম প্রমুখ।

সভা বর্জনকারী দলগুলোর মধ্যে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক ছানোয়ার হোসেন তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ইভিএমের ঘোর বিরোধী। আমরা যেটার বিরোধী, সেটা নিয়ে আলোচনার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে মনে করি না।’

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন