লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতা-কর্মী পুলিশি হয়রানির ভয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। গত এক মাসে রায়পুর থানায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা হয়েছে। এতে ১০৩ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৩০৪ জনকে আসামি করা হয়। গাড়ি ভাঙচুর, আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলাগুলো করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলার বাদী পুলিশ।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুল ইসলাম হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ প্রতি রাতেই নেতা-কর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে। তল্লাশির নামে তাঁরা অনেক নেত-কর্মীর ঘর তছনছ করে। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি মিস্টার সিকদার, সোনাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য মো. বাপ্পী, কেরোয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য তছলিম উদ্দিনসহ ২০ থেকে ২৫ জন নেতা-কর্মীর ঘরে তল্লাশির নামে পুলিশ তছনছ করেছে। এ কারণে নেত-কর্মীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জানুয়ারি জোড়পোল এলাকায় দুর্বৃত্তরা অটোরিকশায় অগ্নিসংযোগ করে। এর পরের দিন খ্যাইলার পোলে একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ২৮ জানুয়ারি থানার সামনে দুর্বৃত্তরা আটটি অটোরিকশা ভাঙচুর করে। ৫ জানুয়ারি রায়পুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা ইট নিক্ষেপ করে ওসিসহ চার পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ১১ নেতা-কর্মীকে আহত করেন। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৭৩টি গুলি করে। ওই দিন বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের সময় পৌর কৃষক লীগের সভাপতি শাহিন ভূঁইয়াকে কুপিয়ে জখম করা হয়।
পৌর বিএনপির সভাপতি এ বি এম জিলানী বলেন, ‘পুলিশ রাতে নেতা-কর্মীদের বাসায় ঢুকে পরিবার-পরিজনকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মিছিল-মিটিং করতে পারছি না। দেশের বিভিন্ন স্থানে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে দলীয় নেতা-কর্মীদের। এ কারণেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি।’ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শাহজাহান পাটওয়ারী জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে নেতা-কর্মীরা নিরাপদে আছেন। তবে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেমে নেই।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মঞ্জুরুল হক আকন্দ হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, নাশকাতাকারীদের ধরতে পুলিশ রাতে নেতা-কর্মীদের ঘরে তল্লাশি চালায়। ঘর তছনছের অভিযোগ ঠিক নয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। নাশকতা রোধে দিনে পুলিশের চারটি ও রাতে ছয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালত টহল দিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন