বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, কেউ যদি উদ্দেশ্যমূলকভাবে জনগণকে বিক্ষুদ্ধ করার জন্য বিজ্ঞাপনমুক্ত আসা চ্যানেল বন্ধ রাখেন, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার কোনো চ্যানেল বন্ধ করেনি। বিজ্ঞাপনমুক্তভাবে যেহেতু তারা ফিড দিচ্ছে না, তাই এসব চ্যানেলের যাঁরা বাংলাদেশে অপারেটর, তাঁরাই সম্প্রচার বন্ধ করেছেন। তিনি বলেন, ক্লিন ফিড না করে বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচারের কারণে বাংলাদেশে এ খাতে প্রতিবছর প্রায় দুহাজার কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ হয় না।

আজ শনিবার চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রবাসী কমিউনিটি-সংযুক্ত আরব আমিরাত এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কয়েক দিন ধরে বক্তৃতা করছেন, সব দলের ঐক্য করে তারা সরকারের পতন ঘটাবেন। এই বুলি যখন দিচ্ছেন, তখন খেলাফত মজলিস ঘোষণা করল, আমরা আর বিএনপির সঙ্গে নাই। যে ঐক্য আছে, সেটাই ধরে রাখতে পারে না, সেখান থেকে দলগুলো তাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে। তারা প্রতিনিয়ত সরকার পতনের হুমকি দেয়। এ কথা বলতে বলতে আসলে তারা নিজেদেরই পতন ঘটিয়ে ফেলেছে।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ আবুধাবি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইফতেখার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, সহসভাপতি ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, চট্টগ্রাম প্রবাসী কল্যাণ সমিতির সভাপতি এম এ ছালাম। বক্তব্য রাখেন সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী কমিউনিটির নেতা আবদুল মোতালেব, জামসেদুল আলম, শফিউল আলম, সেলিম আনছারি, জমির হোসেন জমির প্রমুখ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের আকাশ উন্মুক্ত, এখানে যেকোনো বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার করা যায়, কিন্তু অবশ্যই সেটি বাংলাদেশের আইন মেনে করতে হবে। বাংলাদেশের আইনানুযায়ী বিদেশি চ্যানেলগুলো বাংলাদেশে কোনো বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে পারে না। একই আইন ইউরোপ, আমেরিকা, ভারত, পাকিস্তান শ্রীলঙ্কাসহ উপমহাদেশের অন্যান্য দেশেও আছে। সেই আইন মেনেই সেখানে ভিনদেশি চ্যানেলগুলো সম্প্রচার করতে হয়।
মন্ত্রী হাছান বলেন, দেশে বছরের পর বছর ধরে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বিদেশি চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপনসহ সম্প্রচার করছিল। এটা ১ অক্টোবর থেকে বন্ধ হয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘বিজ্ঞাপনসহ অন্যান্য আয়োজন চালানোর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ হয় না। সেটি থেকে দেশ বঞ্চিত হয়, মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি বঞ্চিত হয়, সাংবাদিকেরাও বঞ্চিত হন। সে কারণে আমরা যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, সেটাকে টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন, সম্প্রচার জার্নালিস্ট ফোরামসহ সবাই অভিনন্দন জানিয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করব, বিদেশি চ্যানেলগুলো শিগগিরই বিজ্ঞাপনমুক্তভাবে বাংলাদেশে ফিড পাঠাবে। তাহলে এখানে সম্প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না। বিবিসি, সিএনএনসহ বহু চ্যানেল আছে যেগুলো বাংলাদেশে বিজ্ঞাপনবিহীন প্রদর্শিত হচ্ছে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য আমরা নীতিমালা করছি, নীতিমালা শিগগিরই চূড়ান্ত হবে, সেই নীতিমালা যখন জারি হবে, তখন সেই নীতিমালার যারা ব্যত্যয় ঘটাবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন