বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ার কারণে সহিংসতা বৃদ্ধির কারণ হলো, আগে থেকেই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য নেতারা লড়াই শুরু করেন, যেটা সহিংসতায় পরিণত হয়। এই পরিস্থিতি ঝিনাইদহে বেশি লক্ষ করা গেছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে যাঁরা ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত, তাঁরা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সঠিক ভূমিকা রাখতে পারেননি বলে মনে হয়েছে। কারণ, এখানে এক দলের মধ্যে একাধিক পক্ষ ছিল। বেশির ভাগ প্রার্থী পেশিশক্তির ব্যবহারের দিকে গেছেন, যেটা সব কর্মকর্তার পক্ষে সামাল দেওয়া কষ্টকর ছিল।

প্রথম দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে ভূমিকা রেখেছিল, শেষ পর্যন্ত সেটা ধরে রাখতে পারেনি। প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনায় কঠোর অবস্থানে থাকার কথা ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত ততটা কঠোর হতে পারেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন ছিল। তাহলে সহিংসতা কিছুটা কম হতে পারত।

ঝিনাইদহে এ পর্যন্ত যে ৬৩টি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে, তার মধ্যে কালীগঞ্জে তিনটি ও শৈলকুপায় তিনটি ইউনিয়নে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। সব দলের অংশগ্রহণ না থাকায় বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী, সেটাও আবার নৌকা প্রতীকের, এই অবস্থায় অন্য প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতে অনেক সময় ভয় পেয়েছেন। অনেক স্থানে প্রার্থী হতে চাওয়ায় তার ওপর নির্যাতনের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব কারণে বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। যেটা গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়। সংঘাতমুক্ত ও অবাধ নির্বাচনের জন্য রাজনীতিকদের আরও বেশি ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করি।

আমিনুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, আমেনা খাতুন ডিগ্রি কলেজ, ঝিনাইদহ

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন