default-image

করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় গত বছর প্রায় ৫৯ লাখ দরিদ্র পরিবারকে ত্রাণসহায়তা দিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু এবার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে কোনো কর্মসূচি নেই দলটির। নিম্ন আয়ের মানুষ খুব সংকটে আছে, অথচ সরকার তাদের জন্য কিছু করছে না—এমন বক্তব্যের মধ্যেই কার্যত সীমাবদ্ধ দলের নেতারা। এর বাইরে আপাতত দলীয়ভাবে ত্রাণ তৎপরতা শুরু করার কোনো উদ্যোগ নেই।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, অন্তত ৫ হাজার নেতা-কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৪০০ নেতা-কর্মী। অনেকে করোনাভীতিতে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। অন্যদিকে সরকারের দমন–পীড়নে কর্মীরা বিপর্যস্ত। অনেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছে না। এরপরও যাঁদের সামর্থ্য আছে, তাঁদের ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে বলা হয়েছে।

তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে ত্রাণ তৎপরতা চালাতে সাংগঠনিক কোনো নির্দেশনা এখনো দেওয়া হয়নি। করোনা মোকাবিলায় সরকারঘোষিত চলমান ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ আপাতত কর্মীদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা বলছেন, চলমান পরিস্থিতিতে সরকারের দায়িত্ব অনেক বেশি। কিন্তু সরকার করোনার মধ্যে গরিব মানুষের কথা না ভেবে উল্টো ভিন্নমত দমনে উঠেপড়ে লেগেছে। প্রান্তিক মানুষের জীবন রক্ষায় লকডাউন ঘোষণার আগেই অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জরুরি ছিল। এই করোনাকালে মানুষের জীবন–জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারের পদত্যাগ করা উচিত।

বিজ্ঞাপন

গত বছর ত্রাণ নিয়ে মাঠপর্যায়ে তৎপর থাকা বিএনপির নেতাদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ইশরাক হোসেন ও দলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম। তাঁরা প্রথম আলোকে বলেন, করোনার ধরন বদলেছে। অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। পরিচিতজনদের অনেকেই আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যেও যতটা সম্ভব সীমিত পরিসরে সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্ব থাকা এমরান সালেহ গতকাল বলেন, ব্যক্তিগতভাবে বা একটি দলের পক্ষ থেকে সবাইকে সহযোগিতা করা সম্ভব নয়। এরপরও গত বছর সর্বোচ্চ সহায়তা কার্যক্রম চালানো হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে দলের নেতা-কর্মীদের অবস্থা ভালো নেই। নেতা-কর্মীদের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকের স্বজনেরা আক্রান্ত হয়েছেন। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সহায়তা কার্যক্রম চালাতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে শিগগিরই নির্দেশনা দেওয়া হবে।

বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গত বছর দেশের ২৫৭টি হাসপাতালে সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছিল। বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও করোনা মোকাবিলায় সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ও পিপিই বিতরণ করেছিলেন। এবার এখন পর্যন্ত এই দুই সংগঠনের দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম নেই।

১৪ বছর ধরে বিএনপির ওপর সরকারের নির্যাতন চলছে... এ অবস্থায় গত বছর দলীয়ভাবে যতটুকু করা গেছে, তা বিরাট ব্যাপার।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির মহাসচিব

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির কেন্দ্রীয় দুজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, গত বছর করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর মানুষজন রাস্তায় নেমে এসেছিল। নিম্ন আয়ের মানুষ কতটা বিপাকে পড়েছে, তা দৃশ্যমান ছিল। দলমত–নির্বিশেষে অনেকেই তখন সহায়তা দিতে মাঠে নেমে এসেছিল। এবার এখনো সেই অবস্থা দেখা যাচ্ছে না। এরপরও বিএনপির নেতাদের অনেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায় মানুষকে সহায়তা করছেন।

ত্রাণ তৎপরতায় বিএনপির নীরবতার কারণ জানতে চাইলে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১৪ বছর ধরে বিএনপির ওপর সরকারের নির্যাতন চলছে। যাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য করেন, তাঁদের অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের চূড়ান্ত হয়রানির মধ্যে রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় গত বছর দলীয়ভাবে যতটুকু করা গেছে, তা বিরাট ব্যাপার। তিনি বলেন, এখন লকডাউনে কেউ বাসা থেকে বের হতে পারছেন না। এরপরও নেতা–কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঘরে থেকেই যতটুকু সম্ভব অসহায় মানুষের জন্য করে যেতে। সীমিত শক্তির মধ্যে যতটুকু করা যায়, সেটি করে যাবে বিএনপি।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন