default-image

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩৪, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বড় দুই দলের প্রার্থীরা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটের দিন পর্যন্ত এমন পরিবেশ থাকলে তাঁরা ভোটকেন্দ্রে যাবেন।

৩৪ নম্বর ওয়ার্ড

সিদ্দিকবাজার, নবাবপুর রোড, হাজী ওসমান গনি রোড, নাজিরাবাজার লেন, কাজী আব্দুল হামিদ লেন, কাজী আলাউদ্দিন রোড নিয়ে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড।

মুক্তিযোদ্ধা মীর সমীর ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর। ২০১৫ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। এবার তাঁকে সমর্থন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেট প্রতীকের এই প্রার্থীর বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে আছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের বংশাল থানা সভাপতি আবুল হাসনাত। তাঁর প্রতীক রেডিও। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কর্মী ফরিদুর রহমানও আছেন নির্বাচনী মাঠে।

আবুল হাসনাতের দাবি, তিনি বিদ্রোহী নন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।

কাউন্সিলর মীর সমীর বলেন, ‘আমি ১৯৯৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কাউন্সিলর ছিলাম। তাই জনপ্রিয়তা যাচাই করে আমাকে সমর্থন দিয়েছে দল। কিন্তু দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কয়েকজন প্রার্থী হয়েছেন। এতে ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে গিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, এই ওয়ার্ডে বিএনপিসহ সব প্রার্থীরা সুষ্ঠুভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন দলের বংশাল থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মামুন আহম্মেদ। ঝুড়ি প্রতীকের এই প্রার্থী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়িনি। আশা করি নির্বাচনের দিন পর্যন্ত এভাবে প্রচার বা ভোটারদের কাছে যাওয়ার সুযোগ পাব।’

নাজিরাবাজার লেনের বাসিন্দা ইমতিয়াজুর রহমান বলেন, এলাকার চায়ের দোকান বা পাড়া-মহল্লায় নির্বাচনী আমেজ দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অঘটনের খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত যাতে প্রার্থীদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকে।

৩৫ নম্বর ওয়ার্ড

মালিটোলা, বংশাল (একাংশ), আনন্দ মোহন বসাক লেন, গোয়ালনগর লেন, ইংলিশ রোড, পুরনো মোগলটুলী, নবাবপুর রোড, হাজী মইনুদ্দিন রোড, নয়াবাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কলোনি এলাকা নিয়ে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড।

ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত প্রার্থী আবু সাঈদ। ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেট প্রতীকের এই প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর। অন্যদিকে এই ওয়ার্ডে দলের স্থানীয় নেতা ইয়াকুব সরকারকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। তাঁর নির্বাচনী প্রতীক ঘুড়ি।

আবু সাঈদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত সাড়ে চার বছর সফলতার সঙ্গে কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করেছি। প্রতিটি পাড়া–মহল্লায় নিজে উপস্থিত থেকে মশার ওষুধ ছিটানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ তদারকি করেছি। আবার এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হতে পারলে নাগরিক পরিষেবার মান আরও বাড়াব।’

তবে ভিন্ন বক্তব্য ইয়াকুব সরকারের। তিনি বলেন, এই ওয়ার্ডে নাগরিক পরিষেবার মান ভালো না। যত্রতত্র বর্জ্য ছড়িয়ে থাকে। রাস্তা ও ফুটপাতে হকার এবং ব্যবসায়ীরা মালামাল স্তূপ করে রাখেন। ঠিকমতো নাগরিকেরা চলাচল করতে পারেন না।

৩৬ নম্বর ওয়ার্ড

আশেক লেন, রাধিকা মোহন বসাক লেন, সৈয়দ আওলাদ হোসেন লেন, কোর্ট হাউস স্ট্রিট, প্রসন্ন পোদ্দার লেন, শাঁখারীবাজার, রায়সাহেব বাজার নিয়ে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর রঞ্জন বিশ্বাস। তাঁর নির্বাচনী প্রতীক ঝুড়ি। বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে আছেন ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সমিন রায় (মিষ্টিকুমড়া), কার্যনির্বাহী সদস্য বাবুল দাস (ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেট) ও জাহাঙ্গীর ইসলাম (ঘুড়ি)। তাঁরা নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় আছেন। এমন পরিস্থিতিতে শঙ্কায় আছেন রঞ্জন বিশ্বাস।

এই ওয়ার্ডে বিএনপির প্রার্থী আবু তাহের।

রঞ্জন বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে দলের অনেকেই কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন। মহানগর কমিটি তাঁদের একাধিকবার চিঠি দিয়েছে। কিন্তু তাঁরা কারও কথা শুনছেন না। বিষয়টি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0