default-image

খালেদা জিয়ার কারামুক্তির কর্মসূচিতে হঠাৎ​ করেই শক্ত ভাষায় কথা বলছেন বি​এনপির নেতারা। বলছেন, সমাবেশ করতে আর প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হবে না। মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের প্রতি নেতারা আহ্বান জানাচ্ছেন, একতাবদ্ধ হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টির জন্য ​প্রস্তুতি নিতে।

কিন্তু দলের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, হঠাৎ​ করেই জ্যেষ্ঠ নেতাদের এমন বক্তব্যে মাঠের কর্মী-সমর্থকদের মনে সাহস জোগালেও আদতে বিএনপির ভেতরের পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন পর্যন্ত নীতিনির্ধারকেরা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কোনো কঠোর কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেননি। শিগগির এমন কর্মসূচির সম্ভাবনাও দেখছেন না নেতা-কর্মীরা। জ্যেষ্ঠ নেতারা অপেক্ষায় আছেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়ার জামিন হয় কি না।

অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি আন্দোলন করবে, এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দিনক্ষণ দিয়ে কি কেউ আন্দোলনের কথা বলেন?

আগামী বৃহস্পতিবার জামি​ন আবেদনের ওপর আপিল বিভাগের পূর্ণ বেঞ্চে শুনানির তারিখ ঠিক হয়েছে। বিএনপির নেতাদের আশঙ্কা, নানা আইনি মারপ্যাঁচে জামিন আবেদন আরও কিছুদিন ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে। যদি শেষ পর্যন্ত আপিল বিভাগেও খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন চূড়ান্তভাবে নাকচ হয়, তাহলে বিএনপি কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়া ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর থাকবে না।

গত রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনের সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বক্তব্য দেন, তাতে এর ইঙ্গিত আছে। তিনি বলেন, ‘এখন আর অন্য কোনো স্লোগান নয়। একটাই স্লোগান, এই সরকার নিপাত যাক। আর কোনো বিভেদ নয়, একসঙ্গে আমাদের আন্দোলনে নেমে পড়তে হবে। অতি দ্রুত রাজপথে নেমে গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টি করে আমরা গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনব, আমাদের দেশনেত্রীকে মুক্ত করব।’

আগের দিন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় রাজশাহীতে এক সমাবেশে বলেন, ‘রাজপথ জনগণের। এখন থেকে সভা-সমাবেশ করার জন্য প্রশাসনের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এই রাজপথ সরকারের কাছে ইজারা দেওয়া হয়নি।’ পরদিন নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসচিবও বলেন, ‘আর অনুমতি নেব না, যখন প্রয়োজন সমাবেশ করব।’

বিএনপির নেতারা মনে করছেন, বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকের সভা-সমাবেশ করার অধিকার দেওয়া আছে। তাই অনুমতির প্রয়োজন নেই।

বি​এনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, আন্দোলনে নামার আগে দলের নীতিনির্ধারকেরা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ভাবছেন। এর একটি হচ্ছে, ভবিষ্যতে সভা-সমাবেশ করার জন্য পুলিশের অনুমতির অপেক্ষা না করার। এ ক্ষেত্রে কর্মসূচির জন্য অনুমতির আবেদন না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথা চিন্তা করা হচ্ছে। অন্যটি হচ্ছে, হয়রানির প্রতিবাদ হিসেবে সারা দেশে পুলিশের দায়ের করা ‘গায়েবি’ মামলায় একযোগে আদালতে হাজিরা না দেওয়া।

এ বিষয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এমন কোনো ভাবনা বা সিদ্ধান্তের কথা তাঁর জানা নেই। তবে তিনি বলেন, মুক্তির জন্য মানুষের যখন কোনো পথ থাকে না, তখন মুক্তির সংগ্রামে অনেক সিদ্ধান্তই নিতে হয়। কারণ, এ ছাড়া তো আর কোনো পথ থাকে না।

সারা দেশে মামলার তথ্য সংগ্রহের জন্য গঠিত বিএনপির মনিটরিং সেল সূত্রে জানা গেছে, বি​এনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর থেকে শুরু করে সারা দেশে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ১ হাজার ৯৮৬টি মামলা আছে। এসব মামলায় নামে-বেনামে আসামির সংখ্যা ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার ৯০৫ জন। এর মধ্যে বর্তমানে জেলে আছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৮০৪ জন। ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে মামলাগুলো হয়েছে বলে বিএনপির মনিটরিং সেল​ সূত্র জানায়।

অবশ্য স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে আন্দোলনের প্রাক-প্রস্তুতির লক্ষণ বলে মন্তব্য করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন সবাই উপলব্ধি করছেন যে আন্দোলন ছাড়া মুক্তি নেই। মিলাদের আগে সুরা পাঠ, কোরআন তিলাওয়াত হয়। এর পরে মূল দোয়ার অনুষ্ঠান হয়। ৩০ ডিসেম্বরের ভোট ডাকাতির নির্বাচনে সারা দেশের মানুষ, বিএনপির নেতা-কর্মীরা আঘাত পেয়েছেন। তাঁদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য এখন আন্দোলনের আবহ তৈরির কাজ চলছে।’

গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘কিছু কর্মসূচি আছে যেগুলোতে অনুমতি দেওয়া-নেওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই। যেমন, আমি হরতাল, অবরোধ বা বিক্ষোভ করব। সেগুলো কি অনুমতি নিয়ে করব?’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0