default-image

চুক্তি অনুযায়ী ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে করোনাভাইরাসের টিকা না আসায় দেশের মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। এ জন্য চুক্তিকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকোর বিরুদ্ধে মামলা করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার রাজধানীর তোপখানা রোডে নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘অগ্রিম টাকা অনেক আগে দিয়েও অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা না পাওয়ার জন্য বেক্সিমকোর বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে। বেক্সিমকোর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে সেরামের সঙ্গে সরকারের সরাসরি নতুন চুক্তি করতে হবে। এ ছাড়া জরুরি ভিত্তিতে অন্য উৎস থেকে টিকা এনে মানুষকে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।’

অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদন করছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। সেখান থেকে তিন কোটি ডোজ টিকা আনতে গত নভেম্বরে সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার ও বেক্সিমকোর ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, সেরাম থেকে টিকা এনে বাংলাদেশ সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বেক্সিমকোর। প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে ছয় মাসে এ টিকা আসার কথা ছিল।

বিজ্ঞাপন

বেক্সিমকো জানুয়ারি মাসে প্রথম চালানে ৫০ লাখ টিকা সরবরাহ করেছিল। পরের মাসে তারা সরবরাহ করে ২০ লাখ ডোজ টিকা। এর বাইরে ভারত সরকারের উপহার হিসেবে ৩৩ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া গেছে। তবে চুক্তির বাকি টিকা কবে আসবে, তা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এ পরিস্থিতি নিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘করোনার টিকা আনার ক্ষেত্রে একটি কোম্পানির একচ্ছত্র ব্যবসার মাশুল দিচ্ছে জনগণ। দেশের মানুষকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ফেলে বহু মৃত্যু ঘটানোর জন্য এই সরকার এবং তার পছন্দের কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা উচিত।’

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে বলেও মনে করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, করোনার মধ্যেই দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়েছে, দেশের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ভিড়, বইমেলাসহ মানুষের মাস্ক পরাও নিশ্চিত করা হয়নি। এ ছাড়া মার্চ মাসের শুরুতে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকলে মার্চের শেষে সরকারি আয়োজন জাতিকে ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। আর এখন সরকারের লকডাউন করোনার প্রকোপ কমাতে ‘কম সাহায্য করছে’, বরং বহু মানুষের জীবিকায় টান দিয়েছে।

লকডাউনের মধ্যে দুর্দশায় থাকা মানুষের কাছে সঠিকভাবে ত্রাণ পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, সরকার যে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে, তা পরিমাণে খুব কম। এ ছাড়া প্রণোদনা সুবিধা শুধু বড় ব্যবসায়ীদের জন্য; কৃষক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হয়েছেন।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক বলেন, করোনায় চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে মারা যাওয়া চিকিৎসকদের পরিবারও ক্ষতিপূরণ পায়নি। পরীক্ষা কমিয়ে করোনা পরিস্থিতি ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য খাতের কোথাও উন্নতি হয়নি, দুর্নীতি চলছে। এ ছাড়া তারা বলে, করোনার ভারতের ধরন দেশে এলে তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতার স্বাস্থ্য বিভাগের নেই।

বিজ্ঞাপন

করোনার বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসরকারি হাসপাতালগুলো বেশি ‘ব্যবসা করছে’ বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক ঐক্যের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়ন, অক্সিজেনের মজুত বাড়ানো, দেশে টিকা তৈরির প্রতিষ্ঠান করা, দেশের দুই কোটি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা এবং ছয় মাস ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ কায়সার, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোমিনুল ইসলাম, সাকিব আনোয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন