default-image

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, খালেদা জিয়া এ দেশের নিরীহ মানুষকে পেট্রলবোমা মেরে পুড়িয়ে হত্যা করছেন। সুশীল সমাজ এখন পেট্রল বোমাবাজদের পক্ষ নিয়ে সরকারকে সংলাপের কথা বলছে। সরকার কোনো হত্যাকারীর সঙ্গে সংলাপে বসবে না।
আজ শনিবার দুপুরে বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজ মাঠে বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি বক্তব্যে হানিফ এ কথা বলেন।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে হানিফ বলেন, ‘আপনারা বলছেন দেশের মানুষ পেট্রলবোমা সন্ত্রাসে অতিষ্ঠ। তাই আপনারা চান যেন সরকার সংকট নিরসনে বেগম জিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসে। কিন্তু বেগম জিয়া তো স্বীকারই করেন না যে তাঁর নির্দেশে পেট্রলবোমা ছুড়ে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, জ্বালাওপোড়াও চলছে। তাহলে আপনারা আগে বেগম জিয়াকে এই অরাজকতার দায়িত্ব স্বীকার করে নিতে অনুরোধ করেন।’
হানিফ আরও বলেন, ‘সুশীল সমাজের কিছু প্রতিনিধি আছেন, যাঁরা ক্ষমতায় বসতে চান। তাঁরা রাজনীতিতে না এসেই ক্ষমতার স্বাদ পেতে চান। কিন্তু দেশে আর কখনো ওয়ান–ইলেভেন হওয়ার সুযোগ নেই। যাঁরা এই স্বপ্ন দেখেন, তাঁরা ষড়যন্ত্রকারী। আপনারা শিক্ষিত মানুষ, গুণীজন। দেশবাসী আপনাদের শ্রদ্ধার চোখে দেখতে চায়। নিজেদের অবস্থান নষ্ট করবেন না।’

বিএনপি-জামায়াতসহ ২০-দলীয় জোটের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হানিফ বলেন, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে এ সরকারের কাছ থেকে দাবি আদায় করা যাবে না। ওরা সন্ত্রাসী, পৃথিবীর সব দেশে সন্ত্রাসীদের যেভাবে দমন করা হয়, সেভাবেই সরকার শক্ত হাতে সন্ত্রাস দমন করবে।’
বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক। আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস এম কামাল, সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক, বাগেরহাট-২ আসনের সাংসদ মীর শওকাত আলী বাদশা, সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ হ্যাপী বড়াল, সাবেক ছাত্রনেতা অসীত বরণ বিশ্বাস প্রমুখ।

১০ বছর পর আজ বাগেরহাটে জেলা আওয়ামী লীগের এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে ২০০৫ সালের ৭ এপ্রিল সর্বশেষ সম্মেলন হয়। সম্মেলনে সভাপতি পদে মোজাম্মেল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক পদে শেখ কামরুজ্জামান (টুকু) পুনর্নির্বাচিত হন।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন