এরশাদের অনুপস্থিতিতে জাতীয় পার্টি এলোমেলো হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন রওশন এরশাদ। তিনি বলেন, ‘এরশাদ থাকলে জাতীয় পার্টি অন্যরকম হতো। যাঁদের দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তাঁদের ফিরিয়ে নিতে হবে। যাঁরা চলে গেছেন, তাঁদেরও ফিরিয়ে আনতে হবে, নতুবা আমরা অনেক পিছিয়ে যাব।’

কাজী জাফর, শাহ্ মোয়াজ্জেম, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নাম উল্লেখ করে রওশন এরশাদ বলেন, ‘অনেক সিনিয়র নেতা পার্টি ছেড়ে চলে গেছেন। তাঁদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে দলে আনতে হবে। দলকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমকক্ষ বানাতে হবে। নতুবা রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারব না।’

জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনে যা যা করার দরকার, তা–ই করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ৭৪ বছর বয়সী রওশন এরশাদ। তিনি বলেন, ‘এরশাদ তিলে তিলে দলটা গড়েছেন। সবাইকে নিয়েই কাজ করতে হবে। বিমানবন্দরে আমি আসার দিন এত মানুষ আমাকে যে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন, তা দেখে আমার দুই চোখে জল এসে গেছে।’

মতবিনিময় সভায় রওশন এরশাদের ছেলে রাহগীর আল মাহি সাদ এরশাদ, রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ্, জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য হাবিবুর রহমান, কারি হাবিবুল্লাহ বেলালী, জাপার সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য এমএ সাত্তার, দেলোয়ার হোসেন খান, কাজী মামুনুর রশীদ, জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর উপস্থিত ছিলেন।

এর মধ্যে হাবিবুর রহমানকে দলের প্রেসিডিয়ামের সভা এবং হাবিবুল্লাহ বেলালীকে দোয়া অনুষ্ঠানের কথা বলে সভায় নেওয়া হয়েছে বলে জাপার দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। আর গোলাম মসীহ্‌র সঙ্গে জাপার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন। এম এ সাত্তার ও দেলোয়ার হোসেন খানকে প্রেসিডিয়াম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কাজী মামুনুর রশীদ, জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, মোস্তাকুর রহমান দল থেকে বহিষ্কৃত। তাঁদের কেউ কেউ জাতীয় পার্টি নামে বিদিশা সিদ্দিক যে তৎপরতা চালাচ্ছেন, তার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

জাপার দায়িত্বশীল একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে ওয়েস্টিন হোটেলে ওঠা বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে চেয়ারম্যানসহ জাপা নেতারা সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন—এমন কর্মসূচির জন্য দলীয়ভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এতে অংশ নিতে জি এম কাদের ও মুজিবুল হকসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতারা জাপার বনানীর কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এ সময় খবর আসে, রওশন এরশাদ যৌথ সভা ডেকেছেন। সেখানে দল থেকে বিচ্ছিন্ন ও বহিষ্কৃত নেতাদের অনেকে উপস্থিত হয়েছেন। এরপর জাপার নেতারা সেখানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদের প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনুষ্ঠানটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাতের। আমরা সবাইকে আসতেও বলেছিলাম। পরে জানা গেল, সেখানে যৌথসভা হবে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি তো (রওশন এরশাদ) যৌথসভা ডাকতে পারেন না। আর যাঁরা সেখানে গেছেন, তাঁদের জেনুইন কারণে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেউ কেউ বিদিশার সঙ্গেও ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে তো আমরা বসতে পারি না।’

জি এম কাদের বলেন, ‘ম্যাডামকে (রওশন এরশাদ) জানানো হয়েছে, তাঁরা চলে যাক, এরপর আমরা যাব। এই করতে করতে বিকেল হয়ে যায়। পরে কী হয়েছে আর জানি না।’

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন