default-image

জাতীয় পার্টির সাংসদ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে অনীহা তৈরি হয়েছে। এই অনীহা গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়। নির্বাচনের ব্যাপারটা ভালো করে দেখা উচিত। তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা না গেলে তা  দেশ বা সরকারের জন্যও ভালো নয়।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে আনিসুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

জাতীয় পার্টির এই সাংসদ বলেন, নির্বাচনে ভোটের হার ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এই যে অনীহা, এটা গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়। স্বাধীনতার চেতনার সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ গণতন্ত্র। আর গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় স্তম্ভ হচ্ছে নির্বাচন। আজ নির্বাচন কমিশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, কেন, এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বিশ্বস্ততা, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা এগুলো একসঙ্গে গাঁথা। ৫ বা ১০ বছরের কথা চিন্তা করলে হবে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করতে হবে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা কেউ অস্বীকার করবে না। কিন্তু নির্বাচনের ব্যাপারটা ভালো করে দেখা উচিত।

আনিসুল ইসলাম বলেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের আরেকটি স্তম্ভ। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে না পারলে তা দেশের জন্য ভালো নয়, সরকারের জন্যও ভালো নয়। তিনি আরও বলেন, আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে উন্নয়নের ধারা ধরে রাখা যাবে না। পাপুল একজন সংসদ সদস্য, কুয়েতে তাঁকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। টাকা বাংলাদেশ থেকে গিয়েছে, কীভাবে গেল? আইন থাকলে হবে না, প্রয়োগ মানুষকে দেখাতে হবে। না হলে অন্যায় বন্ধ হবে না।

বিজ্ঞাপন

চলতি মাসেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জন করবে

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসেই বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণের চূড়ান্ত যোগ্যতা অর্জন করবে। কোভিডকালে সর্বজনীন মন্দা ও সংকটের কথা অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুরু থেকেই একের পর এক প্রণোদনা দিয়েছেন। বাংলাদেশের মতো একটি দেশে এটি অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ। করোনার প্রাথমিক অভিঘাত অতিক্রম করে বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক উত্তরণে এগিয়ে চলছে।

আমলাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো

ওয়ার্কার্স পার্টির সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ওপর আঘাত তাঁকে হেয় করার চেষ্টা। যাদের উসকানিতে এই বিতর্ক ও সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি হয়েছিল, ফেসবুক, ইউটিউবে আজও তাদের বক্তব্য প্রচারিত হচ্ছে। এখনো তাদের উসকানি অব্যাহত আছে। তিনি জানতে চান তথ্য মন্ত্রণালয় কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সংসদে বাজানো হয়েছিল। কিন্তু লজ্জার বিষয়, সে ভাষণ থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের বিষয়ে বক্তৃতা বাদ পড়েছিল। ইউটিউবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণগুলোর অনেক জায়গায় শব্দ পরিবর্তন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর চেতনাকে বিকৃত করার ষড়যন্ত্র চলছে।

বাদশা বলেন, পাট ও চিনিশিল্প ধ্বংস হয়ে গেল। ৫৪ হাজার শ্রমিককে পেশা পরিবর্তন করতে বলা হলো। এটা যুক্তিযুক্ত হলো কি না। প্রযুক্তিগত পরিবর্তন করে কেন আধুনিকায়ন করা হলো না। শাস্তি দেওয়া হলো শ্রমিকদের। আমলাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো—এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর দোষ চাপিয়ে আমলারা সুখেই দিন কাটাচ্ছেন। আর গরিব মানুষদের পেশা পরিবর্তন করতে বলছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের দুর্নীতিবিরোধী বিধি ও সংস্থা দুর্বল। আইন ও সংস্থা দুর্বল হওয়ার কারণে অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন