default-image

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘প্রকৃতপক্ষে তথ্য মন্ত্রণালয় তথ্য প্রদান বা সরকারের কাজগুলো জনসম্মুখে তুলে ধরা ছাড়াও সম্প্রচারের কাজটিও করে আসছে। তাই আমরা চাইছিলাম, এই মন্ত্রণালয়ের নাম কাজের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হোক। এ জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তিত হয়ে এখন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় করা হয়েছে।’

সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের নাম কাজের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ রাখতে পরিবর্তন করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল।

এই প্রেক্ষাপটে গতকাল সোমবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় করা হয়। মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গতকাল প্রজ্ঞাপন জারি করে।

সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ রুলস অব বিজনেসের এই সংশোধন আনেন। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নাম পরিবর্তনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে লিখেছিলাম। মন্ত্রিপরিষদ সেটি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠালে রাষ্ট্রপতি সেটি অনুমোদন দেওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ হয়ে গেজেট হয়েছে। এ জন্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।’

মন্ত্রণালয়ের নামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম সরকার মুজিবনগর সরকার। যে সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, যিনি বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মো. তাজউদ্দীন আহমদ, সেই সরকারের সময়ে এই মন্ত্রণালয়ের নাম ছিল তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়।’

বিজ্ঞাপন

জাতিকে অভিনন্দন জানাতে ব্যর্থ বিএনপি

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই মুজিব বর্ষে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ পরিপূর্ণভাবে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার ফাইনাল রিকমেন্ডেশন দিয়েছে জাতিসংঘ। বড়ই তাজ্জবের বিষয়, জাতির জীবনে এত বড় একটা সফলতা এল, বিএনপি এটি নিয়ে অভিনন্দন দিল না। তারা সরকারকে অভিনন্দন দেওয়া তো দূরের কথা, এই জাতিকে অভিনন্দন দেওয়া, সেটি দিতেও রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে।’

যারা ব্যর্থ ছিল, তারা সব সময় সবকিছুতে শুধু ব্যর্থতা দেখে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, তারা তো চরমভাবে ব্যর্থ ছিল। কিন্তু দেশকে পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানানোর ব্যাপারে এবং সরকারের সঙ্গে হাওয়া ভবন খুলে সমান্তরাল একটি সরকার পরিচালনায় সফল ছিল। দেশকে জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্য বানানোর ক্ষেত্রে তারা সফল ছিল। ৫০০ জায়গায় একযোগে বোমা হামলা, একুশে আগস্টে বোমা হামলা, আদালতের মধ্যে বোমা হামলা, বিচারককে বোমা মেরে হত্যা—এগুলোর ব্যাপারে তারা খুব সফল ছিল। বাকি সব ব্যাপারে তারা ছিল ব্যর্থ। এ জন্য তারা সবকিছুতে ব্যর্থতা দেখার চেষ্টা করে।’
হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি না দেখলেও পৃথিবী কিন্তু দেখছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা, সফলতার জন্য প্রশংসা করেছে, জাতিসংঘ প্রশংসা করেছে।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি এখন যেটি করার চেষ্টা করছে, সেটি হচ্ছে তিস্তা চুক্তি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো। তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে অনেক দূর এগিয়েছি। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আমাদের এ ব্যাপারে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু ভারতের সংবিধান অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের অনুমোদন লাগে। সুতরাং এখানে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো ব্যর্থতা নেই, একাগ্রতা আছে। রাজ্য সরকারের অনুমোদন পেলে সেটি হবে। এটি বিএনপি বুঝেও না বোঝার ভান করে। অপ্রাসঙ্গিক হলেও এটিকে প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করছে। আসলে বিএনপি কোনো ইস্যু খুঁজে পাচ্ছে না, খড়কুটো ধরেই ইস্যু তৈরি করার চেষ্টা করছে।’

খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রথমত খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পাননি, আদালত কর্তৃক খালাসও পাননি। প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আইনগতভাবে তাঁর শাস্তি ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন। পরে আবার ছয় মাসের জন্য এবং তৃতীয় দফা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন। আমি মনে করি, এতে সরকারকে, বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপির একটা অভিনন্দন দেওয়া প্রয়োজন ছিল। প্রধানমন্ত্রী মানবিক দিকটা বিবেচনা করে খালেদা জিয়াকে তাঁর শাস্তি ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখেছেন। কিন্তু বিএনপি সেই ধন্যবাদ দিতে ব্যর্থ হয়েছে, ধন্যবাদ দেওয়ার সংস্কৃতিটা তারা লালন করে না।’

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন