default-image

নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনার অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। আজ সোমবার দুপুরে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই দাবি জানান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম  বলেন, ‘এটা কি শুধু বিদ্যুতের জন্য, গ্যাসের জন্য, এসির জন্য, নাকি আপনার ইচ্ছাকৃত কোনো সাবোটাজ এখানে করা হয়েছে বা নাশকতামূলক কাজ হয়েছে কি না, এ ব্যাপারে কিন্তু জাতি জানতে পারছে না। আমরা মনে করি, এই ব্যাপারে উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি দিয়ে অবিলম্বে তদন্ত কমিটি করা দরকার। এটার সঠিকভাবে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা দরকার এবং তাদের শাস্তির বিধান করার দরকার।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এটা (মসজিদের বিস্ফোরণ ঘটনা) নিয়ে তাদের বেশ কিছু বক্তব্য শোনা গেছে, যে বক্তব্যগুলো বিভ্রান্তিকর। বেআইনিভাবে সরকারি জায়গার ওপর গ্যাসলাইনের ওপর মসজিদ করা হয়েছে, এটা তো এই মুহূর্তে বিবেচ্য বিষয় নয়। এই মুহূর্তের বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে, বিস্ফোরণ ঘটল কীভাবে? এই বিস্ফোরণের প্রকৃতিটা কী, তার চরিত্রটা কী?’

বিজ্ঞাপন

উপনির্বাচনে যাবে বিএনপি

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের বরাবরই সিদ্ধান্ত ছিল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার। শুধু কোভিড-১৯–এর কারণে আমরা গত দুটি উপনির্বাচনে (যশোর ও বগুড়া) যোগ দিয়েও পরবর্তীকালে প্রচারণায় যাইনি, আমরা সরে দাঁড়িয়েছি। আমরা উপজেলা নির্বাচনসহ স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে অংশগ্রহণ করব, সেই সিদ্ধান্তই আছে। সে অনুযায়ী ঢাকা-৫, ঢাকা-১৮, নওগাঁ-৫ ও সিরাজগঞ্জ-১ উপনির্বাচনে অংশ নেব।’
তিনি বলেন, সে হিসেবে আগামী ১০ তারিখে নমিনেশন ফরম বিক্রি করা হবে। ১২ তারিখে পার্লামেন্টারি বোর্ড সাক্ষাৎকারের জন্য বসবে প্রার্থী চূড়ান্ত করার জন্য।

বিজ্ঞাপন

সিনহা হত্যা বিগ রুটেড

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘মেজর অবসরপ্রাপ্ত সিনহার হত্যার বিষয়টা অত্যন্ত বিগ রুটেড। এখানে অনেকগুলো বিষয় সামনে চলে এসেছে। একটা হচ্ছে, স্পটে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং। পুলিশকে এই অথোরিটি কে দিয়েছে? এখন পর্যন্ত আমাদের জানা নেই যে পুলিশ মুহূর্তের মধ্যে কাউকে গুলি করে হত্যা করতে পারে। ২ নম্বর হচ্ছে, হত্যার ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) দেওয়া হয়েছে কি না। আমরা জানি না, এই ধরনের দায়মুক্তি পুলিশের আছে কি না, কাউকে গুলিতে হত্যা করতে পারে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘মেজর সিনহার এই ঘটনা চোখ খুলে দিয়েছে, বিষয়টাকে একেবারে সামনে নিয়ে এসেছে। কিন্তু বহু আগে থেকে ২০০৮ সালে এই আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে কিন্তু এসব ঘটনা ঘটছে। অত্যন্ত বেশি ঘটেছে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ তে। সেগুলো সবই ছিল রাজনৈতিক। এসব কিন্তু সেভাবে সারফেসে আসেনি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক কথা বলেছি, মানববন্ধন করেছি, ভিকটিম ফ্যামিলিগুলোকে নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে, জাতির সামনে আসার চেষ্টা করেছি।

আমাদের ভিকটিমরা জাতিসংঘের সদর দপ্তর জেনেভায় পর্যন্ত গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার রিপোর্টে প্রতিবছরই বিষয়গুলো এসছে, ইউএন হিউম্যান রাইটস কমিশন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ডেমোক্রেসি ওয়াচ এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্টেও বিষয়গুলো উত্থাপিত হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার সব সময় এগুলোকে এড়িয়ে গেছে। যার ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংস্থাগুলো এমন একটা ক্ষমতাশালী, রাষ্ট্রের মধ্যে তারা একটা রাষ্ট্র।’

অবিলম্বে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ ও যারা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন ফখরুল।

বিজ্ঞাপন

ইউএনওর ওপর হামলার প্রসঙ্গ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ইউএনও এখন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। র‌্যাব একটা প্রেস কনফারেন্স করে বলে দিল যে চুরির জন্য এই আক্রমণ করা হয়েছে। আমরা মনে করি, এটা একেবারেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক প্রতিচ্ছবি। এর দুটি দিক—একটা হচ্ছে ল লেসনেস। বাড়িতে ঢুকে যে কাউকে মেরে দেওয়া যায়, কাউকে আঘাত করা যায়। আরেকটা হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্থাগুলোকে কারও কাছে জবাবদিহি করতে হয় না বলেই চট করে একটা সংবাদ সম্মেলন করে বলে দেয় যে চুরির জন্য ঘটনা ঘটছে। গোটা বিষয়টা ডাইভার্ট হয়ে গেল।’

মন্তব্য পড়ুন 0