মাগুরার ২১ জনপ্রতিনিধি ভোটাধিকার-বঞ্চিত

মাগুরার তিনটি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ২১ জনপ্রতিনিধি আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুসারে তাঁরা ভোটাধিকার বঞ্চিত হয়েছেন।

গতকাল রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক সভা শেষে এ কথা জানান জেলা প্রশাসক মুহ. মাহবুবর রহমান। এ খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই জনপ্রতিনিধিদের অনেকে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আহম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে গত ২০ নভেম্বর পর্যন্ত যাঁরা দায়িত্ব পেয়েছেন, তাঁরাই ভোটার হতে পারবেন। কিন্তু সীমানা-সংক্রান্ত মামলায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে মহম্মদপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের নির্বাচন বন্ধ ছিল। সম্প্রতি ওই নির্বাচন হওয়ার পর ২১ নভেম্বর গেজেট প্রকাশিত হয়। তাই সেখানকার চেয়ারম্যানসহ ১৩ জনপ্রতিনিধি ভোটার হতে পারেননি। একইভাবে শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল ও সবদালপুর, মাগুরা সদরের শত্রুজিপুর এবং শালিখার গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত ছিল, যা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়। ২০ নভেম্বরের পরে গেজেট প্রকাশিত হওয়ায় এসব ইউনিয়নের দুজন চেয়ারম্যানসহ মোট আট জনপ্রতিনিধি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না।

বৈঠক সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ নির্দেশনা মেনে গতকালের বৈঠকে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হয়। এতে ২১ জন বাদ পড়ায় জেলার ৪৭২ জনপ্রতিনিধি ভোটার বলে গণ্য হন। আগে এ সংখ্যা ছিল ৪৯৩।

মহম্মদপুর সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বশির খান সাংবাদিকদের বলেন, তিনি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। অথচ এলাকাবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভোট দিতে পারবেন না। এতে তিনি ক্ষুব্ধ। প্রায় একই ধরনের কথা বলেন মহম্মদপুরের ধোয়াইল গ্রাম থেকে নির্বাচিত ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন।

তবে শ্রীকোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুন্তাসিম বিল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারি সিদ্ধান্ত আমাদের মেনে নিতে হবে। ভোট দিতে পারব না, এতে দুঃখ নেই। সুযোগ হলে ভবিষ্যতে ভোট দেব। আমরা চাই জেলা পরিষদ নির্বাচন হোক।’

গতকালের বৈঠকে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রও যাচাই-বাছাই করা হয়। তবে এতে সবগুলোকেই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে ২৮ ডিসেম্বরের জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনজন, সংরক্ষিত নারী সদস্যপদে ১১ জন ও সাধারণ সদস্যপদে ৫৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।