default-image

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাদীন ১৪-দলীয় জোট।
সহিংসতার প্রতিবাদে গতকাল রোববার রাজধানীতে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে জোটের নেতারা এ দাবি করেন। বেলা তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী ১৩টি স্পটে আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসহ ১৪-দলীয় নেতা-কর্মীরা ওই মানববন্ধনে অংশ নেন।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সামনের মানববন্ধনে ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি যে রক্ত ঝরিয়েছেন, প্রতি ফোঁটা রক্তের হিসাব নেওয়া হবে। নির্বাচন হবে, তবে ২০১৯ সালে। সংলাপও হবে ২০১৯ সালে। তবে তা হবে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে। অন্য কারও সাথে নয়।’
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষেদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, নাশকতা দমন করার জন্য নাশকতাবিরোধী বিশেষ আইন, আদালত এবং নাশকতা দমনে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত বাহিনী দরকার।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, সব হত্যার জন্য বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়াকে দায় নিতে হবে। মানুষ হত্যার জন্য তাঁকে
আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘একশ্রেণির বুদ্ধিজীবী বলছেন আগুন-সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য। সব আলোচনা হবে, তবে এখনই তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। আগুনে পোড়াদের মাড়িয়ে আমরা সংলাপ করতে পারি না।’
যাত্রাবাড়ী এলাকায় মানববন্ধনে অংশ নিয়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘খালেদা জিয়া এ দেশ চায় না। তিনি দেশকে পাকিস্তান বানাতে চান। তিনি আল্লাহর ইশারাও বোঝেন না। সে যখন বলল, বোমা বানাইতেছে আওয়ামী লীগের লোক। তখনই ছাত্রদলের এক নেতার হাত বোমায় ঝলসে গেল। উনি পেট্রলবোমা মাইর্যাে অনেক মায়ের কোল খালি করছেন। তাই কথা নাই বার্তা নাই, বিদেশেই তাঁর ছেলে মইর্যাো গেল।’
গাবতলী-টেকনিক্যাল-শ্যামলী এলাকায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সতীশ চন্দ্র রায় ও স্থানীয় সাংসদ আসলামুল হক; শ্যামলী-কলেজগেট-আসাদগেট-ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোড এলাকায় আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর কবির ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী; রাসেল স্কয়ারে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও নূহ-উল-আলম লেনিন; গ্রিনরোড-স্কয়ার হাসপাতাল-বসুন্ধরা মার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা বি এম মোজাম্মেল হক, কামাল আহমেদ মজুমদার ও ফজলে নূর তাপস; কারওয়ান বাজারে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন ও সাংসদ এ কে এম রহমতুল্লাহ; সোনারগাঁও হোটেল মোড়-বাংলামোটর-শাহবাগ মোড় এলাকায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর; শাহবাগ-মৎস্য ভবন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতা আফজাল হোসেন ও ওয়ার্কার্স পার্টির আনিসুর রহমান মল্লিক; মৎস্য ভবনের সামনের মানববন্ধনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের, প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাউছার; বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সামনে ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ওয়াজেদুল ইসলাম খান, তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি ও গণতন্ত্রী পার্টির নুরুর রহমান সেলিম; ইত্তেফাক মোড়-রাজধানী মার্কেট-সায়েদাবাদ যাত্রাবাড়ী এলাকায় মতিয়া চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন