মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বহিষ্কার নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে কোন্দল দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে নবগঠিত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এনামুল হকের চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সম্প্রতি ছাত্রলীগের ৬৭ জন নেতা পদত্যাগ করেন। তবে গত বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সাদিকুল, এনামুল ও ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক সাজেদুজ্জামান অভিযোগ করেন, হুমকি-ধমকি ও মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে ছাত্রলীগের নবগঠিত সদস্যদের দল থেকে পদত্যাগে বাধ্য করানো হচ্ছে।
জেলা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৩০ নভেম্বর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়। সম্মেলনের তিন দিন পর সভাপতি পদে সাদিকুল ও সাধারণ সম্পাদক পদে এনামুলের নাম ঘোষণা করা হয়। গত ২৩ জুলাই ১৫৪ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এই কমিটিতে মানিকগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তাপস সাহা ও জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাজু আহম্মেদ কাঙ্ক্ষিত পদ পাননি।
গত ২৩ জুলাই সাদিকুল ও এনামুলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁদের বহিষ্কার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন স্থানীয় সাংসদ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনসহ জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। এরপর থেকে সাদিকুল ও এনামুলের সমর্থক নেতা-কর্মী এবং ‘কাঙ্ক্ষিত পদবঞ্চিত’ তাপস ও রাজুর সমর্থক নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রকাশ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ‘কাঙ্ক্ষিত পদবঞ্চিত’ ছাত্রলীগের এই পক্ষকে জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি বাবুল সরকার ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক ছাড়াও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা সমর্থন করছেন।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব বিষয় নিয়ে গত চার দিনে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় হামলা, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। গত সোমবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অভিনন্দন জানাতে সাদিকুল ও এনামুলের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করার চেষ্টা করেন। এ সময় তাপস ও রাজুর নেতৃত্বে ওই কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীরা বাধা দেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন নেতা-কর্মী আহত হন। ওই দিন বিকেলে শহরের বেউথা এলাকায় সাদিকুলের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেন প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীরা।
গত মঙ্গলবার সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ ক্যাম্পাসে এনামুলের সমর্থক ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীর ওপর হামলা হয়। এতে ছয়জন আহত হন। গত বুধবার রাতে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের আলীমুল হক ছাত্রাবাসে সাদিকুল ও এনামুলের সমর্থকদের ধাওয়া করেন প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীরা। গত বৃহস্পতিবার এনামুলের সমর্থক নেতা-কর্মীরা তাপসের কয়েকজন কর্মীকে পিটিয়ে আহত করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা বলেন, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে চরম বিরোধ চলছে। যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে।
সাদিকুল ও এনামুল বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। বাবুল ও আবু বকর সিদ্দিক তাঁদের ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের ভুল বুঝিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। জেলা আওয়ামী লীগ, সাংসদ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মতামতের ভিত্তিতেই ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে তাপস ও রাজু ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তাপস ও রাজু বলেন, সাদিকুল ও এনামুল নিজেরাই হামলার ঘটনা ঘটিয়ে তাঁদের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। এ বিষয়ে বাবুল ও আবু বকর সিদ্দিক বলেন, সাদিকুল ও এনামুল চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এতে সংগঠন তথা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ কারণে ছাত্রলীগের কমিটি থেকে অনেকেই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন