বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তীব্রভাবে বলতে হবে, সরকার তুমি মালিক ও সিন্ডিকেটের সরকার, গণমানুষের সরকার নও। বঙ্গবন্ধু কোনো দিন অবিচার-অনাচার সহ্য করেননি। এই দেশ বঙ্গবন্ধু বানাতে চাননি, যেখানে মালিকের সঙ্গে দোস্তি করে মানুষের ওপর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির খড়্গ চাপিয়ে দেওয়া হবে। বঙ্গবন্ধু এই কাজ জীবনে করেননি, কিন্তু বর্তমান সরকার করল। এর জন্য মানুষের দরবারে গণ–আদালতে তাদের বিচার হবে।’

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি দেশে কেরোসিন ও ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ায় সরকার। এরপর ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে বাস–লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেন মালিকেরা। এতে টানা তিন দিন জনদুর্ভোগের পর রোববার বাস–লঞ্চমালিকদের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বৈঠকে ভাড়া বাড়ানো হয়।

এ বিষয়ে পঙ্কজ ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘পরিবহনের মালিকদের সঙ্গে দেশের মালিক বনে যাওয়াদের (সরকার) বৈঠক হলো। দুই মালিকের বৈঠক। জনগণকে জানানো হলো না। জনগণের পিঠে ছুরি মারার মতো একটি সিদ্ধান্ত হলো, যাতে প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়ে যাবে। প্রতিদিন দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, সরকারের এ বিষয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। মানুষ না খেয়ে মরুক, কার কী এসে যায়! গদিতে বসে মানুষকে অপমান-অশ্রদ্ধা করে বাস-লঞ্চের মালিকদের সঙ্গে মিলে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে মানুষের পিঠে ছুরি মারা আমরা মেনে নিতে পারব না। এ জন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থেকে নাটক করে মানুষের ওপর সব দোষ ও খরচ চাপিয়ে দিল—এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

জনগণের মতামত না নিয়ে নাটকীয়ভাবে পরিবহনের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পঙ্কজ ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘আমি প্রশ্ন করতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যখন বিদেশে, তখন এই সিদ্ধান্তটা কে নিল? বিশ্ববাজারে তেলের দাম কম থাকায় গত সাত বছরে ৪৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকা লাভ হয়েছে। এই টাকা গেল কোথায়? কে মেরে দিল?’

সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়ে পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, একটি সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসবে হামলা হবে—এটা ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলেও দেখা যায়নি।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের আমলেই এটা ঘটল। বিএনপি-আওয়ামী লীগ এ নিয়ে দোষারোপের রাজনীতি করল। বিএনপি জামায়াতের কোলে বসে আছে, আর আওয়ামী লীগ হেফাজতের সঙ্গে দোস্তি করেছে। জামায়াত-হেফাজত দেশে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে। তাদের রক্ষার জন্য এখন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দোস্তি সবচেয়ে বড়।

কর্মসূচিতে ঐক্য ন্যাপের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এস এম এ সবুর বলেন, জ্বালানি তেলসহ সব দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। এতে তাদের নাভিশ্বাস উঠবে। এ পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না। এসবের বিরুদ্ধে সবাই মিলে রাজপথে নেমে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

ঐক্য ন্যাপের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য অলিজা হাসান বলেন, করোনায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, অনেক পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ফলে অনেক পণ্যের উৎপাদনও কমেছে। এর ফলে বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ হারাচ্ছেন। সেখানে ‘গোদের ওপর বিষফোড়া’ হচ্ছে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি। ৯৫ ভাগ মানুষের ওপর খড়্গ চালিয়ে বর্তমান সরকার একশ্রেণির সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীর জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন বলেন, সব পরিবহনের ভাড়া বেড়ে যাবে। এ কারণে মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়বে।

করোনাকালে সারা বিশ্বে যখন মানুষ না খেয়ে মরছে, সরকার তখন সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।

ঐক্য ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ তারেকের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে সংগঠনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল মুনায়েম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশিদ ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সাহাবউদ্দিন আহমেদ, জাতীয় শ্রমিক জোটের কার্যকরী সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ, দলিত ফোরামের সভাপতি চান মোহন রবিদাস প্রমুখ বক্তব্য দেন।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন