default-image

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ওরফে মিরু হত্যার ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও মূল আসামিরা গ্রেপ্তার হননি। এতে শুধু ভুক্তভোগী পরিবারেরই নয়, ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি স্থানীয় সাংসদ মমতাজ বেগম নিজেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দলের একটি অংশ ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তাঁরা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১ মার্চ দিবাগত রাতে উপজেলার ভাকুম গ্রামে স্থানীয় সাংসদ মমতাজ বেগমের বাড়িতে গানের অনুষ্ঠান থেকে মোটরসাইকেলে করে উপজেলা সদরে বাড়িতে ফিরছিলেন ফারুক হোসেন। রাত একটার দিকে সিঙ্গাইর পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সিঙ্গাইর সরকারি কলেজে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মো. দুলাল ও তাঁর ভাই জালাল মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। এরপর তাঁরা ফারুককে চায়নিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। পরদিন দুপুরে ঢাকার জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ৩ মার্চ নিহত ফারুকের ভাই রিয়াজুল করিম ছাত্রলীগ নেতা দুলাল, পরিবহন শ্রমিক লীগের নেতা জালালসহ ১২ জনের নাম উল্লেখসহ চার-পাঁচজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন

মামলার বাদী রিয়াজুল করিম বলেন, মামলা দায়েরের ১৬ দিন হয়ে গেলেও মূল হত্যাকারীদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ফারুক হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা মোল্লা মো. দুলালকে মারধর করেন। এই বিরোধের জের ধরে ছাত্রলীগ নেতা দুলাল ও তাঁর বড় ভাই উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন ওরফে আঙ্গুরসহ তাঁদের সহযোগীরা ফারুককে কুপিয়ে হত্যা করেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান বলেন, ফারুক ও দুলালের এই বিরোধের বিষয় নিয়ে তিনি ও সিঙ্গাইর পৌরসভার মেয়র আবু নাঈম মো. বাশার মীমাংসা করে দেন। জালাল ও তাঁর ভাই দুলাল সাত-আট বছর আগে তাঁরা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে পরিবহনে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে আসছেন। তিনি আরও বলেন, ফারুকের সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনপ্রিয়তা দেখে প্রতিপক্ষ দুলাল ও জালাল ঈর্ষান্বিত ছিলেন। তাঁরা ফারুককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেন। তবে হত্যার পরিকল্পনা তাঁদের ছিল না। শারীরিকভাবে পঙ্গু করার পরিকল্পনা করে ফারুকের ওপর হামলা করা হয় বলে তাঁর ধারণা। আর এতে দলেরই কয়েকজন নেতা নেপথ্যে থেকে হত্যাকারীদের ইন্ধন দিয়েছেন।

এদিকে প্রায় প্রতিদিনই হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আসছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগসহ দলের অন্য সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সাংসদ মমতাজ বেগমও এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

মমতাজ বেগম বলেন, এখন পর্যন্ত মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে মূল আসামিদের গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ প্রশাসনকে আহ্বান জানান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিঙ্গাইর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম বলেন, এখন পর্যন্ত মামলার পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের চারজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন।

যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সুপার রিফাত রহমান বলেন, মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব আসামিকেই গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আসামিরা আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে কী বলেছেন, এই মুহূর্তে জানানো সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন