default-image

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে ‘গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির’ কথা গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছে বিএনপি। দলটি বলেছে, বাংলাদেশে গণতন্ত্রহীনতা এ অঞ্চলের জন্য অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল আজ রোববার বিকেল চারটায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করে। এর মধ্যে ১২ মিনিট খালেদা জিয়া ও মোদির একান্ত আলাপ করেন। বৈঠক শেষে হোটেলের লবিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, অত্যন্ত আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
পরে বৈঠক সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

default-image

কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, জানতে চাইলে আবদুল মঈন খান বলেন, ‘আমরা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতিটি বিষয় উল্লেখ করেছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আজ বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি। বাংলাদেশে যদি গণতন্ত্র না থাকে, তাহলে কেবল বাংলাদেশ নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের জন্য অস্থির পরিবেশের সৃষ্টি করতে পারে।’
মঈন খান বলেন, ‘আমরা গ্লোবাল ভিলেজে বাস করি। এখানে কেউ যদি মনে করে নিজের পরিমণ্ডল শান্তশিষ্ট হয়ে ঘুমিয়ে থাকব, অন্য কেউ এখানে সমস্যা সৃষ্টি করবে না। এটা হতে পারে না।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আজ বাংলাদেশে বিরোধী দলের ওপর অত্যাচার, আমাদের মহাসচিব, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের হাজার হাজার কর্মীদের অত্যাচার-অনাচার করা হচ্ছে। এ বিষয়গুলো গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আপনাআপনি উঠে এসেছে।’
মঈন খান বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিত্বহীন সরকার দেশের উন্নয়নের যেসব কথা বলছে তা অর্থহীন, যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকে। তাই জনগণের কল্যাণ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হচ্ছে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করা। আমরা এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছি।’
মঈন খান বলেন, ১৬ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ মধ্যম বা উচ্চ আয়ের দেশ হতে হলে মানুষকে কথা বলার, মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও সাবিহ উদ্দিন আহমেদ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন