অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নিয়ে খালেদা জিয়া নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছিলেন। নির্বুদ্ধিতার প্রায়শ্চিত্ত কি জ্বালাও-পোড়াও। আমি মনে করি, খালেদা জিয়ার নির্বুদ্ধিতার প্রায়শ্চিত্ত রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাব্যবস্থা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শিক্ষা ও গবেষণার কাজে যুক্ত ‘জার্নি’ নামের একটি সংগঠন এ সেমিনারের আয়োজন করে।
বিএনপি তাদের রাজনৈতিক দলের সত্তা হারাতে বসেছে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অবরোধ-হরতাল কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয়। রাষ্ট্রবিরোধী, জনগণবিরোধী আন্দোলন। এ আন্দোলনের জন্য খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, ‘সন্ত্রাসীর সঙ্গে আলোচনা করে কোনো সমাধান নয়। অন্যায় স্বীকার করতে হবে, এর পরে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে আলোচনা হতে পারে। এর আগে আমাদের পক্ষ থেকে সাড়া দেওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই।’ দেশকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের মধ্যে টেনে নেওয়ার জন্যই এ আন্দোলন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যারা এখন দেশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করছে, তাদের পেছনে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সাহায্য রয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘নাগরিক সমাজ সহিংসতাকে বন্ধ করার ব্যাপারে “প্রেসক্রাইব” করছে, তারা তো জানেই না কারা কী করছে। শুধু শিক্ষাব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত তা নয়, পুরো বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের সাবেক ডিন খন্দকার বজলুল হক। প্রবন্ধে বলা হয়, শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন অক্ষুণ্ন রাখতে চলমান সহিংসতা বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই।
বিশ্ব শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি মাহফুজা খানমের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ চৌধুরী, শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এস এম এ ফায়েজ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারুন-অর-রশিদ প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন