বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আমীর-উল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান, সাবেক বিচারপতি আবদুল মতিন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন, মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ, মন্ত্রিপরিষদের সাবেক সচিব আলী ইমাম মজুমদার, সাবেক সচিব মহিউদ্দিন আহমদ, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য পারভীন হাসান, সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আজ বুধবার দ্বিতীয় দল হিসেবে সংলাপে অংশ নিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। এই সংলাপে সার্চ কমিটি নিয়ে আলোচনার সঙ্গে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আলোচনা চেয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা।

বিবৃতিতে নাগরিকেরা বলেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নের বেশ কিছু মাপকাঠিতে দেশের প্রশংসনীয় সাফল্য এসেছে। তবে মুদ্রার অপর পিঠ; অর্থাৎ নির্বাচন, জবাবদিহি, আইনের সমপ্রয়োগ, বাক্‌স্বাধীনতা, সভা-সমিতির অধিকার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতন এবং আনুষঙ্গিক অনেক মাপকাঠিতে আমরা ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছি। বৈষম্যের হারও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানের ক্রমাবনতি এখন অনস্বীকার্য।’

এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এসব ছাড়িয়ে আমাদের উদ্বেগের আরেকটি বড় কারণ হলো, রাজনীতিতে পরমতসহিষ্ণুতার অবনতি। তিন দশক আগের, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় প্রণীত তিন রাজনৈতিক জোটের রূপরেখায় যে গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা থেকে আমরা ক্রমাগত পেছনে হেঁটেছি।’

বিবৃতিতে ৩৭ নাগরিক আশা করেন, আজকের ক্ষীণ গণতন্ত্রের বাংলাদেশে এখন আবার নতুন করে গণতন্ত্রচর্চা, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, জবাবদিহি, আইনের সম ও ন্যায্য প্রয়োগ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সর্বময় ও বণ্টনব্যবস্থাকে সাম্যমূলক করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও ঐকমত্যের ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি আলাপ-আলোচনা করবেন। এই আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতের বাংলাদেশের ব্যাপারে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি খসড়া প্রস্তাব প্রণীত হবে। এই প্রস্তাবে বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের রূপকল্পও স্থান পাবে। সেই সঙ্গে মানবাধিকার-সংক্রান্ত ব্যাপক এবং প্রকট বিচ্যুতি নিরসনের নির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলোও রচিত হবে।

বিবৃতিদাতারা বলেন, তাঁরা আশা করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ‘তিন জোটের রূপরেখা’র আদতে একটি ঐকমত্য সৃষ্টি হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে প্রণীত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৪৮(৫) অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে মন্ত্রিপরিষদের বিবেচনার জন্য পাঠাবেন।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে আরও রয়েছেন ফেমার সভাপতি মুনিরা খান, নারীপক্ষের সদস্য শিরিন হক, আইনজীবী সারা হোসেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, সাবেক সচিব আবদুল লতিফ মণ্ডল, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, আলোকচিত্রশিল্পী শহিদুল আলম, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন মুরশিদ, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, লেখক রেহনুমা আহমেদ, সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক স্বপন আদনান, সাবেক ব্যাংকার সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, অধ্যাপক শাহনাজ হুদা, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক গোলাম মোনোয়ার কামাল, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের ক্লিনিক্যাল নিউরোসায়েন্স সেন্টারের পরিচালক নায়লা জামান খান, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, আর্টিকেল ১৯-এর আঞ্চলিক পরিচালক ফারুক ফয়সাল, মানবাধিকারকর্মী ফস্টিনা পেরেরা ও নূর খান।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন