খালেদা জিয়ার আবদারমতো আগামী নির্বাচনকালে কোনো সহায়ক সরকার গঠিত হবে না, নির্বাচন হবে শেখ হাসিনার অধীনেই। ফরিদপুরে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে এ কথা বলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও ফরিদপুর-১ আসনের সাংসদ আবদুর রহমান। গতকাল রোববার দুপুরে ফরিদপুরের অম্বিকা ময়দানে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবদুর রহমান বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে স্পষ্ট করে বলছি, খালেদা জিয়ার আবদারমতো আগামী নির্বাচনকালে কোনো সহায়ক সরকার গঠিত হবে না, নির্বাচন হবে শেখ হাসিনার অধীনেই।’ তিনি বলেন, ‘তবে নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ ও সুবিধা থাকবে। কাউকে নির্বাচনে আনার জন্য তেলানো হবে না, আবার কাউকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়ার জন্য চেষ্টাও করা হবে না।’

আবদুর রহমান আরও বলেন, শেখ হাসিনা যাঁদের নৌকা প্রতীক দেবেন, নৌকার গুণও (নৌকা টেনে নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত দড়ি) তাঁদের হাতেই থাকবে। নৌকা প্রতীক পাবেন একজন আর গুণ থাকবে অন্যের হাতে, এ অবস্থা সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না।

ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলের ভেতরে সবাই একমত না-ও থাকতে পারেন। তাই বলে দলের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ যেন কোনো নেতা-কর্মী না করেন। করলে দলের সবাই মিলে তাঁদের ছাই দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে পথে আনতে হবে। মন্ত্রী বলেন, নেতার চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। দলের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, যে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দিল, এখন সেই বিশ্বব্যাংকই পায়ে ধরে আবার আমাদের কাছে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের ভাষ্যমতে, বাংলাদেশ এখন নিম্ন আয়ের দেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ প্রত্যাশিত মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। এরপর ২০৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশকে এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে ভেদাভেদ ভুলে পুনরায় শেখ হাসিনাকে নির্বাচনে বিজয়ী করতে কাজ করতে হবে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক শওকত আলী জাহিদের সভাপতিত্বে এই সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার।

সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ, ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহতেশাম হোসেন বাবর, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেজবাউদ্দিন সাচ্চু প্রমুখ।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে মঞ্চেই কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার আগামী তিন বছরের জন্য ফরিদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হিসেবে শওকত আলী জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ফাহাদ বিন ওয়াজেদ ফাইনের নাম ঘোষণা করেন। তাঁরা দুজন আগামী এক মাসের মধ্যে বসে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন