সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি জনমত গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ জন্য নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে মাঠে নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নাশকতার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের ব্যানারে কর্মসূচিও চলবে।
সরকার ও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে নাশকতা হওয়ায় এটাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বলে মনে করেন না দলীয় নেতারা। এ জন্য দলের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন প্রথম আলোকে বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শুধু পুলিশই ব্যবস্থা নেবে না, সব শ্রেণি-পেশার মানুষকেও মাঠে নামানো হবে। সহিংসতা ও নাশকতার বিরুদ্ধে জনমতও গঠন করা হবে।
কয়েকজন মন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াতের অবরোধে ধারাবাহিকভাবে পেট্রলবোমা মেরে সাধারণ মানুষকে হত্যা করার বিষয়টি ছিল সরকারের ধারণার বাইরে। তাই প্রাথমিকভাবে কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করা হয়েছিল। পেট্রলবোমার ব্যবহার দীর্ঘ হওয়ায় প্রশাসনিক শক্তির পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী এবং ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, জনগণের শক্তি বড় শক্তি। এই শক্তির মাধ্যমেই বোমাবাজদের প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, ১৪ দলের মানববন্ধনে জনতার ঢল নেমেছে। এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
গত শুক্রবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বিএনপির সঙ্গে সংলাপ না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে সরকারের শক্তিশালী অবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলা হয়েছে, বিএনপি-জামায়াতের কার্যক্রম আর আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের মধ্যে কোনো তফাত নেই।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দুজন নেতা জানান, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন চাইলে তাদের সহায়তা করার কথাও বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন