শঙ্কায় বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা

বিজ্ঞাপন
default-image

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ১৩ জন প্রার্থী। তিন ওয়ার্ডেই আছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। বিএনপিতে এ নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই। দলটির প্রার্থীদের আশঙ্কা সুষ্ঠু ভোট নিয়ে। তাঁদের অভিযোগ, তাঁরা ঠিকমতো প্রচারণা চালাতে পারছেন না। প্রতিপক্ষের লোকজন নানাভাবে তাঁদের হুমকি ও বাধা দিচ্ছেন।

৩১ নম্বর ওয়ার্ড

মৌলভীবাজার, বেগমবাজার, আবুল হাসনাত সড়ক, বেচারাম দেউরী, ডি সি রায় সড়ক, এ সি রায় রোড, মকিম কাটারা, বি কে রায় লেনসহ বেশ কিছু এলাকা নিয়ে ৩১ নম্বর ওয়ার্ড। প্রায় ২ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ভোটার ১৬ হাজার ৩৫৪ জন।

এলাকার লোকজন বলেন, ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা যানজট। মৌলভীবাজার, বেগমবাজার, রজনী বোস লেন, মিডফোর্ড হাসপাতালের সামনের সড়কে যানজট বেশি। নুর বক্স সড়ক, আবুল খায়ের সড়ক, বেগমবাজার সড়কসহ বেশ কিছু সড়ক ভাঙা। এ ছাড়া ওয়ার্ডের বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা আছে।

ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী চারজন। আওয়ামী লীগ–সমর্থিত প্রার্থীর বাইরে দলের একজন নির্বাচনে লড়ছেন।

ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন মোহাম্মদ আলমগীর। ঝুড়ি প্রতীকের এই প্রার্থী বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থী কেবল আমার জয় আটকানোর জন্যই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর কোনো ভোট নেই।’

ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দলের ওয়ার্ড সভাপতি ইরোজ আহমেদ আদেল। তিনি ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।

বিএনপি–সমর্থিত বর্তমান কাউন্সিলর রফিকুল ইসলামকে দল সমর্থন দেয়নি। সমর্থন পেয়েছেন ওয়ার্ড সভাপতি এ এম কাইয়ুম। তিনি রেডিও প্রতীকে লড়ছেন। বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, ‘এই ওয়ার্ডে বেশির ভাগ সময় বিএনপি জয়লাভ করেছে। ফলে আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’ তবে সুষ্ঠু ভোট ও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে শঙ্কার কথা জানালেন এই প্রার্থী।

ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র প্রার্থী জুবায়েদ আদেল টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীকে লড়ছেন।

৩২ নম্বর ওয়ার্ড

বংশাল সড়ক, কে পি ঘোষ স্ট্রিট, কসাইটুলী, পি কে রায় লেন, হাজি আবদুর রশীদ লেন, কবিরাজ স্ট্রিট, হরনী স্ট্রিট, বাগডাসা লেন, জুমবালী লেন, হায়বৎ নগরসহ বেশ কিছু এলাকা নিয়ে ৩২ নম্বর ওয়ার্ড। ওয়ার্ডটিতে জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ। মোট ভোটার ২১ হাজার ৬১৫ জন।

এলাকার লোকজন বলেন, ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা মাদক। হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যায়। বংশাল থানা প্রায়ই মাদক কারবারিদের ধরে। কিন্তু মাদক সমস্যা কমছে না। এ ছাড়া এলাকায় যানজট, জলাবদ্ধতা, খাওয়ার পানির সংকটও আছে।

ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ছয়জন। আওয়ামী লীগ–সমর্থিত প্রার্থীর বাইরে বিদ্রোহী আছেন দুজন। আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন পেয়েছেন দলের ওয়ার্ড কমিটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক আবদুল মান্নান।

লাটিম প্রতীকের এই প্রার্থী ঢাকা পণ্য পরিবহন এজেন্সি মালিক সমিতির নেতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, আরমানিটোলা থেকে শরৎচন্দ্র চক্রবর্তী সড়ক প্রায় সময় ট্রাক দিয়ে আটকে পণ্য ওঠানো–নামানো হয়। তবে তাঁর (আবদুল মান্নান) ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারেন না।

বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রচারণায় বিভ্রান্তি তৈরি করছেন। তাঁরা নিজেদের আওয়ামী লীগ মনোনীত বলে দাবি করে ভোট চাইছেন। তবে জয়ের ব্যপারে আমি আশাবাদী।’ পরে অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অন্য এক ব্যক্তি ফোন ধরেন বলেন, তিনি ব্যস্ত আছেন। পরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।

এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বর্তমান কাউন্সিলর ও দলের কর্মী বিল্লাল শাহ। তাঁর প্রতীক ঠেলাগাড়ি। এ ছাড়া বংশাল থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ইমরানও নির্বাচন করছেন। তাঁর প্রতীক মিষ্টি কুমড়া।

এই ওয়ার্ডে বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন বংশাল থানার সভাপতি তাজউদ্দিন আহমেদ। ঘুড়ি প্রতীকের এই প্রার্থী বলেন, ‘নির্বাচন করতে এসে আমি নানাভাবে হুমকি–ধমকির শিকার হচ্ছি। এলাকাগুলোতে লাগানো আমার অধিকাংশ পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতি চললে নির্বাচন করা কঠিন হয়ে যাবে।’

এই ওয়ার্ডে ঝুড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজ উদ্যোগে শতাধিক সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছি। এলাকার জনগণকে নিয়ে কয়েকটি মাঠ ও সড়ক সংস্কার করেছি। শুধু কথায় নয়, কাজ দেখে আমাকে মানুষ ভোট দেবে। আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’ ওয়ার্ডের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুস সালাম। তাঁর প্রতীক ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট।

৩৩ নম্বর ওয়ার্ড

বংশাল সড়ক, নেকী দেউরী, আবদুল হাদী লেন, নবাব কাটারা, চানখাঁরপুল লেন, শিক্কাটুলী লেন, গাঙ্গুলি লেন, আবুল হাসনাত সড়ক নিয়ে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড। প্রায় দেড় লাখ বাসিন্দার মধ্যে মোট ভোটার ৩৮ হাজার ২২৩ জন।

এলাকার লোকজন বলেন, চানখাঁরপুল, বংশাল, ফুলবাড়িয়া এলাকার প্রধান সড়কে যানজট সব সময় লেগে থাকে। এ ছাড়া আছে মাদক, জলাবদ্ধতা ও খাওয়ার পানির সমস্যা।

এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী তিনজন। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছাড়াও একজন বিদ্রোহী আছেন।

ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন দলের ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কাউন্সিলর আউয়াল হোসেন। তিনি লড়ছেন মিষ্টি কুমড়া প্রতীক নিয়ে। এই প্রার্থী বলেন, ‘আমি এলাকার পানি সমস্যা দূর করার জন্য একটি আধুনিক পানির পাম্প বসিয়েছি। পর্যায়ক্রমে আরও বসানো হবে। তা ছাড়া মাদক সমস্যা অনেকটা কেটে গেছে।’ তিনি বলেন, আবার নির্বাচিত হলে যানজটসহ অন্যান্য সমস্যা দূর করার জন্য পদক্ষেপ নেবেন।

এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দলের কোতোয়ালি থানার সাবেক সভাপতি মোস্তাকুর রহমান। তিনি ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

ওয়ার্ডে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে বংশাল থানা বিএনপির কর্মী লতিফ উল্লাহকে। রেডিও প্রতীকের এই প্রার্থী বলেন, ‘আমি সুষ্ঠুভাবে প্রচারণা চালাতে পারছি না। আমার পোস্টার প্রতিপক্ষ ছিঁড়ে ফেলছে। গত শুক্রবার রাতে আমার বংশালের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় কার্যালয়ে থাকা পোস্টার তারা ছিঁড়ে ফেলেছে।’ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বিএনপির এই প্রার্থী।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন