default-image

‘আমি শপথ নিয়েছি দলে গ্রুপিং করব না। গ্রুপিং রাজনীতি করা আমার পক্ষে সম্ভব না। যারা দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদককে প্রশ্রয় দেবে না, আমি তাদের পক্ষে। আমি ভালোর পক্ষে, আমি উন্নয়নের পক্ষে। দলের গ্রুপিং থেকে আমাকে দূরে রাখবেন।’

আজ রোববার দুপুরে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন নড়াইল-২ (লোহাগড়া-নড়াইল সদরের একাংশ) আসনের সাংসদ ও ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা। লোহাগড়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয় চত্বরে এ সম্মেলন হয়। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মুন্সী আলাউদ্দিন। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান।

সাংসদ মাশরাফি বলেন, ‘আমার রাজনীতির বয়স মাত্র ১০ মাস। আমার জীবনে দেখা এটি প্রথম সম্মেলন। আমার কষ্ট লাগে, দুঃখ পাই যখন দেখি সবাই নৌকার লোক। অথচ একে অপরের সঙ্গে দ্বন্দ্ব-বিভাজনে জড়িত। সবাইকে অনুরোধ করব, আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন। ঐক্যের মাধ্যমে আসুন আমার সবাই নড়াইলকে গড়ি, নড়াইলের উন্নয়নের জন্য কাজ করি। কেউ দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবেন না। মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়ছেন। কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ে আপনারা কী করছেন? আপনারা, আমরা যদি কুকর্ম করি, তাহলে তা প্রধানমন্ত্রীর ঘাড়ে পড়ে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগে যেমন লুটেরা আছে, তেমনি না খাওয়া ত্যাগী নেতা-কর্মীও আছে। ওই লুটেরাদের সঙ্গে খাঁটি আওয়ামী লীগের আপস চলে না। যারা টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত; তাদের নেতা হিসেবে প্রশ্রয় দেবেন না। এখন সুসময়, অনেক বসন্তের কোকিল আসবে। কিন্তু কোনো ইয়াবাখোর, টেন্ডারবাজ, সন্ত্রাসী ও অনুপ্রবেশকারীর এখন আওয়ামী লীগে জায়গা হবে না। তৃণমূল নেতাদের সৎ নেতৃত্ব বেছে নিতে হবে, যারা মাশরাফির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে নড়াইল গড়বেন। দুর্নীতিমুক্ত নড়াইল জেলা হোক বাংলাদেশের প্রথম উদাহরণ।’

সম্মেলন ঘিরে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়। পদপ্রার্থীরা নিজের পক্ষের লোক দিয়ে শোডাউন করেন সম্মেলনস্থলে। পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে যায় সম্মেলনস্থল।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0