এবার একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাননি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়েছে।
শহীদ মিনারে না গেলেও গতকাল আসরের নামাজের পর গুলশানে নিজের কার্যালয়ে ভাষাশহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন খালেদা জিয়া।
গতকাল শনিবার সকালে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমদ চৌধুরী ও মাজিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল বিএনপির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। দলের স্থায়ী কমিটির কোনো সদস্য বা জ্যেষ্ঠ নেতাদের কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। এতে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সকাল সাতটার দিকে রাজধানীর বলাকা সিনেমা হলের সামনে জমায়েত হন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সেখান থেকে শহীদ মিনারে যান তাঁরা।
এর আগে খালেদা জিয়া কখনো প্রধানমন্ত্রী কখনো বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে একুশের প্রথম প্রহরেই শ্রদ্ধা জানাতেন। গত বছর এই দিনে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রীয় কোনো পদে ছিলেন না। সেবারও দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে রাত একটার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন তিনি।
বিএনপির সূত্র জানায়, আশঙ্কা ছিল খালেদা জিয়া একবার তাঁর কার্যালয় থেকে বের হলে আর তাঁকে কার্যালয়ে ঢুকতে দেবে না পুলিশ। কিন্তু তিনি চান, আন্দোলন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যালয়ে থাকতে। তার ওপর অবরোধ চলছে। এসব কারণে তিনি এ বছর শহীদ মিনারে যাননি। তবে এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
খাবার নিয়ে ভেতরে যেতে বাধা: পুলিশের বাধার মুখে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে যেতে পারেননি বিমান, নৌ ও সেনাবাহিনীর সাবেক ১২ জন কর্মকর্তা। গতকাল শনিবার তাঁরা খাবারের প্যাকেট নিয়ে ওই কার্যালয়ে যেতে চেয়েছিলেন। পুলিশের বাধা পেয়ে খাবার রাস্তায় রেখে চলে যান তাঁরা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার ও বর্তমান নভোএয়ারের পাইলট রেজাউর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে খাবারের প্যাকেট নিয়ে যান। এ সময় সাদাপোশাকে পুলিশের গুলশান থানার একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কোনো খাবার যাবে না। উপরের নিষেধ আছে।’
এ পর্যায়ে রেজাউর রহমান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি না। সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য মানবিক কারণে কিছু খাবার নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু পুলিশ নিতে দিচ্ছে না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
বিএনপির প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও ছিলেন স্কোয়াড্রন লিডার এম ওয়াহিদ-উন নবী, টুকু জামিল, আযম গণি, মুহাম্মদ তারেক, রেজাউল ইসলাম (বাংলাদেশ বিমানের সাবেক বৈমানিক), মেজর জামালী হায়দার, ক্যাপ্টেন ফিরোজ ইফতেখার, লে. কমান্ডার সাইফুল আলম, ফ্লাইট লে. মোহাম্মদ রেজোয়ান।
গত ৩ জানুয়ারি রাত থেকে গুলশানে নিজের কার্যালয়ে অবস্থান করছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাঁর সঙ্গে আছেন ৪০ জনের বেশি নেতা, কর্মকর্তা-কর্মচারী। বিএনপি অভিযোগ করে আসছে, ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যালয়ে অবস্থানকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বাইরে থেকে খাবার নিতে পুলিশ বাধা দিচ্ছে।
খাবার সরবরাহে বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘খালেদা জিয়ার খাবার সরবরাহে কোনো বিধিনিষেধ নেই। ওখানে কর্তব্যরত পুলিশ কী করেছে, জানি না।’
ভাষাশহীদদের জন্য দোয়া: গতকাল আসরের নামাজের পর ওই কার্যালয়ে ভাষাশহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। খালেদা জিয়া এতে অংশ নেন।
শায়রুল কবির খান জানান, মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মাহমুদুল হাসান। খালেদা জিয়া কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলা থেকে মোনাজাতে অংশ নেন। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে রাখায় এবং কার্যালয়ে ঢুকতে বাধা থাকায় বাইরের কেউ মোনাজাতে অংশ নিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে অবস্থানরত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খানসহ কার্যালয়ে অবস্থানকারী সবাই মোনাজাতে অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন