বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল বন্দর উপজেলার কবিলের মোড়, সোনাকান্দা, শহরের ডন চেম্বার, বঙ্গবন্ধু সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় নৌকা প্রতীকের পক্ষে মিছিল হয়েছে। এসব মিছিলে ‘নৌকা’ নিয়ে স্লোগান হলেও দলীয় প্রার্থী আইভীর নামে স্লোগান হয়েছে কম। গত দুই দিনে শামীম ওসমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহানগর সভাপতি জুয়েল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দীন আহমেদ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসমাঈল, বন্দর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানসহ ওয়ার্ড পর্যায়ের বেশ কিছু নেতাকে মাঠে দেখা গেছে। তবে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চন্দন শীল, সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাসহ পদধারী বড় নেতাদের তৎপরতা সেভাবে দেখা যায়নি।

বলা হচ্ছে পুরোনো মামলায়, মাদকের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তাদের ধরা হচ্ছে। কিন্তু এই মুহূর্তে কেন? ১৬ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। গ্রেপ্তার করতে হলে পরে করুন
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাংসদ এস এম আকরাম

সেলিনা হায়াৎ আইভীর নির্বাচন সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন জায়গায় একটি পক্ষ শামীম ওসমান ও তাঁর ছেলে অয়ন ওসমানের নামে স্লোগান দিয়েছে। কিন্তু আইভীর নাম নেওয়া হয়নি। কোথাও মিছিলে দশবার শামীম ওসমানের নাম বললে একবার আইভীর নাম বলা হয়েছে।

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা নামলেও আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেননি। বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে এমন অভিযোগও পাচ্ছি যে শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের অনুসারীরা হাতির পক্ষে ভোট চাচ্ছেন।’

তবে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের চুপচাপ থাকা আর শামীম ওসমানের অনুসারীদের মাঠে নামার শেষ ফল কী হয়, তা নিয়ে অনেকে সন্দিহান।

এই কথা শুনতে শুনতে আমি তিন দিন ধরে হয়রান হয়ে গেছি। আমার যাঁরা নেতা-কর্মী মাঠে কাজ করছেন, তাঁদের কথা জিজ্ঞেস করছেন না। একজনকে কেন বারবার টেনে নিয়ে আসেন আপনারা? উনি তো নৌকার লোক, নৌকার বাইরে কোথায় যাবেন?
সেলিনা হায়াৎ আইভী

বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মেয়র নির্বাচনে ভোটে তৈমুর আলমের বিপক্ষে কাজ করছেন গিয়াস উদ্দিন ও আবুল কালাম। নারায়ণগঞ্জ শহরের বাসিন্দা কালাম মহানগর বিএনপির সভাপতি আর গিয়াসউদ্দিন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। এ দুজনের সঙ্গে তৈমুরের পুরোনো রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে।

তবে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল প্রথম আলোকে বলেন, কিছু লোক তৈমুরকে ব্যক্তিগতভাবে অপছন্দ করতে পারেন। বিএনপির শক্তি কিন্তু তৃণমূল। নেতারা কিছু ভোট এদিক-সেদিক করতে পারেন, কিন্তু তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের যে বাঁধভাঙা আবেগ, তাঁরা কখনো নৌকায় ভোট দেবেন না।

বনের হাতি বনেই যাবে: আইভী

গতকাল শহরের টানবাজার ও নিতাইগঞ্জ এলাকায় গণসংযোগকালে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভোটের পরিবেশ ভালো আছে। ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত আমরা এ রকম পরিবেশ চাই। সাধারণ মানুষ যাতে ভোট দিতে যেতে পারেন, সেই পরিবেশ চাই।’

আইভীর প্রতিদ্বন্দ্বী তৈমুরের প্রতীক হাতি। আইভী মজা করে বলেন, ‘হাতি তো বনেই থাকে, হাতি তো শহরে থাকে না। বনের হাতি বনেই যাবে, নৌকা মার্কা জিতে যাবে।’

দলীয় সাংসদ শামীম ওসমানের সমর্থকদের সহায়তা পাচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নে বিরক্তি প্রকাশ করেন আইভী। তিনি বলেন, ‘এই কথা শুনতে শুনতে আমি তিন দিন ধরে হয়রান হয়ে গেছি। আমার যাঁরা নেতা-কর্মী মাঠে কাজ করছেন, তাঁদের কথা জিজ্ঞেস করছেন না। একজনকে কেন বারবার টেনে নিয়ে আসেন আপনারা? উনি তো নৌকার লোক, নৌকার বাইরে কোথায় যাবেন?’

বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির বিষয়ে তৈমুর আলমের অভিযোগ প্রসঙ্গে আইভী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শহরের পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য কোনো মাদকাসক্ত, সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের কাউকে ধরে থাকলে তারা সঠিক কাজই করেছে। এর বাইরে আমি জানি না।’ তিনি বলেন, ‘শহরে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, কিশোর গ্যাংয়ের লিডার, মাদক বিক্রেতা, হোন্ডা বাহিনী—বহু কিছু আছে; তাদের ধরা হোক। নারায়ণগঞ্জে কোনো গডফাদারের যেন উত্থান না হয়।’

তৈমুরের ‘শোডাউন’

দুপুরে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক নিয়ে শহরে নির্বাচনী ‘শোডাউন’ করেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার। তৈমুর আলম একটি ছাদখোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে রাস্তার দুই পাশের উপস্থিত জনতাসহ বাসাবাড়ির বারান্দায় দাঁড়ানো লোকজনের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বারবার দুই হাত তুলে সবার কাছে বিনীতভাবে দোয়া চান। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে মেট্রো হল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। রাস্তায় দুবার তৈমুর আলমকে থামানোর চেষ্টা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মিছিলের আগে খানপুর হাসপাতালের সামনে পথসভা করেন তৈমুর। তিনি নারায়ণগঞ্জে আসা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া এবং এর পর থেকে তাঁর নেতা-কর্মীদের অনেককে মাদক ব্যবসায়ী বানিয়ে গ্রেপ্তার এবং বাড়ি বাড়ি পুলিশের তল্লাশির অভিযোগ করেন।

পথসভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাংসদ এস এম আকরাম নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘বলা হচ্ছে পুরোনো মামলায়, মাদকের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তাদের ধরা হচ্ছে। কিন্তু এই মুহূর্তে কেন? ১৬ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। গ্রেপ্তার করতে হলে পরে করুন।’

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন