default-image

নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলার হোতা ও মদদদাতাদের খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।
আজ শুক্রবার সকালে এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘আমরা জানতে চাই, কারা এ হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে এবং কারা হাজার হাজার জনতাকে ভুল বুঝিয়ে সংগঠিত করেছে। এর মদদদাতা কারা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই হোতাদের পরিচয় জানতে চাই।’

শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামের এক যুবকের বিরুদ্ধে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে কটূক্তি করে ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ তুলে গত বুধবার সেখানে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও উপাসনালয়ে হামলা করা হয়। আশপাশের গ্রামগুলোর কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয়ে এ হামলা চালান। এ সময় ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

এ হামলার জন্য হেফাজতে ইসলামকে দায়ী করেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। বৃহস্পতিবার তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হেফাজতে ইসলামের একটি সমাবেশের পর হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে জনৈক ঝুমন দাসের ফেইসবুক ওয়ালে একটি পোস্ট দেওয়ার কারণে হেফাজতের লোকজন এ হামলা চালিয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

তবে ওই ফেসবুক পোস্ট নিয়ে আগেই উত্তেজনা দেখা দিলেও প্রশাসন কেন হামলা ঠেকাতে পারেনি, সেই প্রশ্ন তুলেছেন হেফাজত নেতা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।
বিবৃতিতে আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বলেছেন, তাঁরা আগেই মাইকে হামলার খবর শুনে গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ স্থানে পালিয়ে গেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, এ হামলার খবর তাঁদের আগেভাগে কারা জানাল? হামলার আশঙ্কা জেনেও স্থানীয় প্রশাসন কেন যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি? এ অবহেলা বা ব্যর্থতার দায় অবশ্যই সেখানকার প্রশাসনকেই নিতে হবে।

এ হামলাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যায়িত করে ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আজিজুল হক বলেন, ‘পর্যাপ্ত তদন্ত, অনুসন্ধান ও প্রমাণ ছাড়াই হেফাজতে ইসলামকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যমূলক প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে কয়েকটি চিহ্নিত ভারতপন্থী মিডিয়া। আমরা তাদের এহেন অপেশাদার ও হলুদ সাংবাদিকতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অতীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলে হেফাজতে ইসলাম সেটার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। আমরা সবাইকে স্পষ্ট জানাতে চাই, ভিন্নধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় ও বাড়িঘরে কোনো ধরনের হামলাকে হেফাজত সমর্থন করে না।’

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন