মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রায় এক যুগ পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার। উপজেলার আবদুল গণি সরকার উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনকে ঘিরে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন পদপ্রার্থী নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০৩ সালে। ওই সম্মেলনে কোনো ভোট গ্রহণ হয়নি। জেলার নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে আবদুল খালেককে সভাপতি এবং আবদুল কুদ্দুসকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ২০১১ সালে আবদুল খালেক মারা যাওয়ার পর উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বিকাশচন্দ্র সাহা ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এবার সম্মেলনে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ১৪৭ জন এবং জেলার ১৫ জনসহ মোট ১৬২ জন কাউন্সিলর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। এর অধিকাংশ ইউনিয়ন কাউন্সিলে ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী ১৫ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার কথা থাকায় অনেকটা তড়িঘড়ি করে ইউনিয়ন সম্মেলন করা হয়েছে। এবার উপজেলায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় আগ্রহী প্রার্থীরা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। সম্মেলনস্থল ছাড়াও আরিচা বন্দর, উপজেলা পরিষদ চত্বর, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর এবং বিভিন্ন হাট-বাজার এলাকায় প্রার্থীরা তাঁদের সমর্থন চেয়ে বিলবোর্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার টানিয়েছেন।
সভাপতি পদে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিকাশচন্দ্র সাহা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রেজাউর রহমান খান, সাবেক জাসদ নেতা আলী নেওয়াজ ভুঁইয়া এবং ফয়জুল হক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
আর সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবদুল কুদ্দুস, শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন, স্থানীয় মহাদেবপুর ডিগ্রি কলেজের সাবেক সহসভাপতি মাসুদ উদ্দিন ও উপজেলা শ্রমিকলীগের সাবেক নেতা আব্বাস আলী।
জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দীপক কুমার ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলার এই সম্মেলন করতে ইতিমধ্যে উপজেলার সবগুলো ইউনিয়ন সম্মেলন সম্পন্ন করা হয়েছে। কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের যোগ্য নেতৃত্ব বের হয়ে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন