default-image

শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে শেষ শয্যায় শায়িত হলেন আবদুল মতিন খসরু। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাংসদ ও সাবেক আইনমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন খসরু (৭১) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার তিনি মারা যান।


হাসপাতাল থেকে আজ সকালে রাজধানীর বকশীবাজারে অবস্থিত বাসভবনে মতিন খসরুর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল সাড়ে আটটার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে তাঁর জানাজা হয়। সেখান থেকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে ১০টার আগেই পৌঁছে তাঁর লাশবাহী গাড়িটি। সেখানে মতিন খসরুর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ বহনকারী গাড়িটি কুমিল্লার উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে।
কুমিল্লায় কয়েক দফা জানাজার পর ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মিরপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় আবদুল মতিন খসরুর মরদেহ দাফন করা হয় বলে জানিয়েছেন ‘আবদুল মতিন খসরু অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস’-এর আইনজীবী মো. আবু ইব্রাহিম।

বিজ্ঞাপন


এ দিকে মতিন খসরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারকাজ চলেনি।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৬ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন সাংসদ আবদুল মতিন খসরু। পরে ১ এপ্রিল তাঁর করোনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসে। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৩ এপ্রিল তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। বুধবার বিকেল পৌনে পাঁচটায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।


সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে আবদুল মতিন খসরুর জানাজায় প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। জানাজায় মতিন খসরুর কর্মময় জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস। সেখানে আবদুল মতিন খসরুর ছেলে আবদুল মোনেম ওয়াসিফ তাঁর বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিন খসরুকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায় পুলিশের একটি দল। এরপর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

আবদুল মতিন খসরু ১৯৫০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মিরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন তিনি। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৭৬ সালে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে কুমিল্লা জেলা আদালতে আইন পেশা শুরু করেন তিনি। হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে ১৯৮২ সালে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৯৬-২০০১ আওয়ামী লীগ সরকারের আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মতিন খসরু। তিনি কুমিল্লা-৫ আসনে পাঁচবারের সংসদ সদস্য। আর গত ১০ ও ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে (২০২১-২২) সভাপতি পদে নির্বাচিত হন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মতিন খসরু।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন