বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্য নাগরিক সমাজ যে সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছে, তা অবাস্তব ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছেন, যারা মাকে সন্তানহারা করছে, সন্তানকে মাহারা করছে এবং পেট্রলবোমা দিয়ে নিরীহ মানুষকে পোড়াচ্ছে, তাদের সঙ্গে কোনো সংলাপ হতে পারে না।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গতকাল মঙ্গলবার স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) জন্য সেবা খাতে বাজার-সুবিধাবিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সংলাপের অনুরোধ জানিয়ে গত সোমবার সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসনকে চিঠি দিয়েছেন। এটি উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, সরকার এ বিষয়ে কী ভাবছে?
জবাবে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘তাঁদের প্রস্তাব অবাস্তব ও অগ্রহণযোগ্য। সন্ত্রাস, নাশকতা ও সন্ত্রাসী তৎপরতাকে আড়াল করার জন্য একটি গণতান্ত্রিক দলকে নাশকতাকারী দলের একই কাতারে দাঁড় করানোর চেষ্টা রয়েছে এই প্রস্তাবে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শামসুল হুদা কেন? যে কেউ বলুক না কেন, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংলাপের কোনো প্রশ্নই আসে না। পৃথিবীতে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যদি সংলাপই হতো, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে সংলাপ করত।’
তাহলে সমাধান কী, জানতে চাইলে তোফায়েল বলেন, আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, এই শামসুল হুদা হচ্ছেন তিনি, গত নির্বাচনের আগে যিনি বিএনপির মূল সংগঠনকে বাদ দিয়ে অন্য একটি সংগঠনকে অনুমতি দিয়েছিলেন।
অন্য সংগঠন বলতে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টকে (বিএনএফ) বুঝিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ।’ আপনার এই বক্তব্য তো বিএনপির পক্ষে গেল, সাংবাদিকদের এমন কথার জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘যাক। সত্যি কথা বললাম।’
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনসহ যাঁরা শোক জানাতে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে গিয়েছিলেন, ১৫ লাখ ছাত্রছাত্রী যে পরীক্ষা দিতে পারছে না, তাঁরা কি খালেদা জিয়াকে বলেছিলেন যে শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে এসব (হরতাল-অবরোধ) বন্ধ করুন?’

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন