বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ড. কামাল হোসেনকে দেওয়া চিঠিতে রাষ্ট্রপতির সংলাপে না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে আপনার পরামর্শ অনুসারে নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে রাষ্ট্রপতির ২০১৪ ও ২০১৮ সালের সংলাপের অভিজ্ঞতার আলোকে গণফোরামের নির্বাহী পরিষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ২ জানুয়ারি রোববার গণফোরাম রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দল যেমন বিএনপি, কমিউনিষ্ট পার্টি, বাসদসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহ ইতিমধ্যে সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এ দেশের মানুষ বিশ্বাস করে, রাষ্ট্রপতির এ সংলাপ কার্যত একটি নাটকীয় আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। চলমান সংলাপ দেশবাসীর কাছে আগের মতোই চাতুর্যপূর্ণ সংলাপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কাজেই উক্ত সংলাপে গণফোরামের নামে অংশগ্রহণ করা অপ্রত্যাশিত এবং বর্তমান সরকারের অপশাসন ও জনগণের ভোটাধিকার হরণের রাজচালাকির সহযোগী হিসেবে গণ্য করা হবে। এমতাবস্থায় গণফোরামের ঐতিহ্য এবং সুনাম অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে আপনাকে এবং গণফোরামের পক্ষে উক্ত সংলাপে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার জন্য সবিনয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী বলেন, সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে রাষ্ট্রপতির কথিত ‘সংলাপের নাটক’ বাংলাদেশে ইতিপূর্বে দুবার অনুষ্ঠিত হয়েছে, প্রথমবার ২০১৪ সালে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সঙ্গে ও দ্বিতীয়বার ২০১৮ সনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সাহেবের সঙ্গে। দুবারই জাতিকে কীভাবে প্রতারিত করা হয়েছিল, যা জাতির ইতিহাসে কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত নির্বাচন কমিশন দশম ও একাদশ তামাশার নির্বাচন অনুষ্ঠিত করেছিল। এমনকি নিশি দুর্বৃত্তরা দিনের ভোট রাতে ডাকাতি করেছে, যা বিশ্ব গণতন্ত্রের ইতিহাসে ঘৃণ্য রেকর্ড হয়ে থাকবে। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে গণফোরাম দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, বর্তমান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চলমান সংলাপ একটি তামাশা মাত্র। যার মাধ্যমে কোনো কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন কমিশন গঠন করা সম্ভব নয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দলের নির্বাহী সভাপতি আবু সাইয়িদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নিজের ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন। বাকি সব করতে হয় প্রধানমন্ত্রীর মতামত নিয়ে। সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। এর বাইরে যা হবে, তা যদি সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা বাতিল বলে গণ্য হবে। সার্চ কমিটি তো আইনেই নেই, যেটা বাতিল বলে গণ্য হবে। এ মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি যেই কাজটি করছেন, এটা কি বৈধ?

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের নির্বাহী সভাপতি মহসীন রশিদ।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন