default-image

বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীতে গণর‍্যালি-পূর্ব সমাবেশে তাঁরা এমন মন্তব্য করেন।
সমাবেশে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের টানা অবরোধ-হরতালে নাশকতা ও পেট্রলবোমার প্রতিবাদে আগামী ৮, ৯ ও ১০ মার্চ ঢাকা থেকে গাইবান্ধা পর্যন্ত পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। গতকাল বিকেল চারটায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের সামনে ট্রাকে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। তাঁর বক্তব্যের পরপরই বিকেল পাঁচটার দিকে শুরু হয় গণর‍্যালি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনে গিয়ে এটি শেষ হয়।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া পদযাত্রার ধরন সম্পর্কে প্রথম আলোকে বলেন, ৮ মার্চ ঢাকা থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে সিরাজগঞ্জ পৌঁছাবে। সেখানে রাতযাপন শেষে ৯ মার্চ বগুড়ার উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু হবে। বগুড়ায় সমাবেশের পর ১০ মার্চ গাইবান্ধার উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু হবে। সেখানে সমাবেশের পর এ কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হবে। পদযাত্রার সময় বেশ কয়েকটি পথসভা হতে পারে। পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
গণর‍্যালি-পূর্ব সমাবেশে কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনার নাতনিদের পরীক্ষা বলে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আপনি আমাদের ছেলেমেয়েদের পরীক্ষা দিতে দিচ্ছেন না। আপনি এসএসসিতে ফেল করেছেন, আপনি পড়ালেখার মর্যাদা কী বুঝবেন?’ তিনি বলেন, ‘নিজেরা আন্দোলনে না পেরে এখন বিদেশিদের ডেকে আনছেন। মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের সই নকল করে বিবৃতি দিয়েছেন। অমিত শাহর সঙ্গে কথা না বলেও প্রচার করেছেন।’
সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত কোনো বিদেশি এ দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। শিশু ও নারী হত্যাকারীদের সঙ্গে সংলাপ হবে না।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘খুনির সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না। খালেদা জিয়া মানুষ পুড়িয়ে মারছেন। নির্বাচন হবে ২০১৯ সালে। নির্বাচনের সময় সংলাপ হবে। তবে সেই সংলাপ হবে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে।’
বিমানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘সংলাপ ও সন্ত্রাস একসঙ্গে চলতে পারে না। সংলাপে আওয়ামী লীগ কিংবা ১৪ দল রাজি হতো যদি তারা সন্ত্রাস বন্ধ করত।’ তিনি বলেন, তাঁরা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বান কি মুনসহ বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। কিন্তু ধরনায় কাজ হবে না।
তথ্যমন্ত্রী ও জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘সংলাপের তদবির না করে আগুন-সন্ত্রাসীদের থামতে বলুন। আগুন-সন্ত্রাসীদের বিতাড়িত করলে দেশে শান্তি ফিরে আসবে।’
নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘খালেদা জিয়া আপনি হত্যাকাণ্ড বন্ধ করুন। আপনি ঘুঘু দেখেছেন, কিন্তু ফাঁদ দেখেননি। আপনার অফিসে নাকি খাবার যায় না। তাহলে এত দিন বেঁচে আছেন কীভাবে?’
ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ওয়াজেদুল ইসলাম খান, গণতন্ত্রী পার্টির নুরুর রহমান সেলিম, জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে গণর‍্যালি শুরু হয়ে পল্টন-জাতীয় প্রেসক্লাব-মৎস্য ভবন হয়ে শিখা চিরন্তনে গিয়ে শেষ হয়। এই র‍্যালির কারণে বেশ কয়েকটি সড়কে তীব্র যানজটে পড়ে মানুষ।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন