বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তাঁর এই বক্তব্য শুনে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘মাননীয় সদস্য, বুঝলাম না বিষয়টা।’ অন্যদিকে সরকারি দলের সাংসদরা হইচই করে এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। বেশ কয়েকজন সদস্য আসন থেকে দাঁড়িয়ে এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এ সময় সংসদ কক্ষে হট্টগোল তৈরি হয়।

অন্যদিকে হারুন বলতে থাকেন, ‘আমি আপনার কাছে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা চাই। আপনি আমাকে ফ্লোর দিয়েছেন, আমাকে উত্থাপন করার সুযোগ দেবেন।’ তখন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘মাননীয় সদস্য আপনাকে এই কথাটা প্রত্যাহার করার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।’ জবাবে হারুন বলেন, ‘আমি আগে উত্থাপনটা করি মাননীয় স্পিকার। আপনি আমাকে অনুরোধ করেছেন, আমি আগে উত্থাপন করি। আপনি ব্যাখ্যা দিয়ে যদি আমাকে সন্তুষ্ট করতে পারেন, আমি অবশ্যই প্রত্যাহার করব।’ অন্যদিকে সরকারি দলের সদস্যরা হইচই করে এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।

তাঁরা আগে বক্তব্য প্রত্যাহার চান। স্পিকার তাঁদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ করেন।
একপর্যায়ে হারুন বলেন, ‘আমাকে উত্থাপন তো করতে দেবেন। জবাবে স্পিকার বলেন, “আপনি কী বলতে চাচ্ছেন?”’ হারুন বলেন, ‘এই সংসদে যে অনির্বাচিত সদস্যরা রয়েছেন, এই কথাটা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছেন, আমি আপনার অনুরোধে প্রত্যাহার করছি।’ সরকারি দলের সদস্যদের হট্টগোলের মধ্যে তখন স্পিকার বলেন, ‘আমি শুনতেই পাচ্ছি না।’

পরে স্পিকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করে হারুন বলেন, দুই ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়েছে। তৃতীয় ধাপের নির্বাচন সামনে, চতুর্থ ধাপের তফসিল হয়েছে।

ইতিমধ্যে প্রায় তিন শতাধিক ইউপিতে চেয়ারম্যান এবং গোটা পরিষদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। স্পিকারের উদ্দেশে হারুন প্রশ্ন রাখেন, ‘তাদের আমরা কী বলব? তারা কাদের দ্বারা নির্বাচিত? এই বিষয়টি আপনি আমাকে পরিষ্কার করবেন।’

সাংসদ হারুন বলেন, কোনো কাজের টেন্ডার হলে যদি একজন অংশ নেয়, তখন আবার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যেখানে নির্বাচন হচ্ছে, সেখানে কেন পুনঃ তফসিল হচ্ছে না। এটা বড় সংকট তৈরি হয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। সরকারি দল এবং তাদের বিদ্রোহীরা সারা দেশে হানাহানি খুনাখুনিতে লিপ্ত হয়েছে।

হারুন বলেন, ‘যুক্তিসংগত এবং সাংবিধানিক জায়গাটি পয়েন্ট অব অর্ডার আকারে উত্থাপন করতে চেয়েছি। আপনি প্রত্যাহার করতে বলায় মাননীয় স্পিকার আমি সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।’ এ সময় তাঁর সঙ্গে বিএনপির অন্য সাংসদেরাও ওয়াকআউট করেন।


হারুনের বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তরীকত ফেডারেশনের সাংসদ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, কোনো প্রতিবাদ নয়, বিএনপির হারুন ভয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন। বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, এটা ঠিক নয়। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছে। আর বিএনপি–জামায়াত নির্বাচনে অংশ না নিলেও কিছু যায় আসে না।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন