জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে যোগ দিতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন সাবেক ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লাতিফ সিদ্দিকী। তিনি আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে তাঁদের পরামর্শ চাচ্ছেন বলে দলের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
আজ রোববার আবার সংসদ অধিবেশন বসছে। এই অধিবেশনে যোগ দেবেন কি না, জানতে চাইলে গতকাল শনিবার রাতে লতিফ সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কিছু বলব না। আমি ভালো আছি। আপনারা ভালো থাকুন।’
সরকারের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংসদে ফিরতে লতিফ সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে নানাভাবে চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সফল হননি। পরে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কারও কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে সমর্থ হন। কিন্তু তাঁরা সবাই তাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা প্রথম আলোকে বলেন, লতিফ সিদ্দিকী সংসদে যোগ দিলে তা হবে সরকার ও দলের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি।
লতিফ সিদ্দিকীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, তিনি সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
লতিফ সিদ্দিকী গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে মন্তব্য করেন, যা গণমাধ্যমে আসার পর ব্যাপক সমালোচনা হয়। ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মন্ত্রিসভা থেকে তাঁর অপসারণ ও বিচারের দাবি তোলা হয়। এরই একপর্যায়ে লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা এবং দলীয় সব পদ থেকে অপসারণ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে বেশ কয়েকটি মামলা হয়। পরে দেশে ফিরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এসব মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়ে গত মঙ্গলবার তিনি বাসায় ফেরেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0