সংগঠনের দার্শনিক ভিত্তি সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ

মধুর ক্যানটিনে ‘সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নতুন নামে আত্মপ্রকাশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের তাজ নাহার (ছাত্র ফ্রন্টের সদ্য সাবেক আহ্বায়ক)। বক্তব্যে বলা হয়, ‘সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের পটভূমিতে ১৯৮৪ সালের ২১ জানুয়ারি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট আত্মপ্রকাশ করেছিল। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংগঠনটি জোটবদ্ধ ও এককভাবে শিক্ষা ও গণতন্ত্রের সংগ্রামে আপসহীন সাহসী ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু সংগঠনের অভ্যন্তরে আদর্শিক ও সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে গুরুতর মতপার্থক্যের কারণে ছাত্র ফ্রন্ট এখন তিন ধারায় বিভক্ত। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নামে এখন তিনটি সংগঠন কাজ করছে। এ অবস্থায় সংগঠনের নাম নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির অবসান ঘটানো এবং নিজেদের আদর্শিক ও সাংগঠনিক পরিচয় মূর্ত করে তোলার লক্ষ্যে আমরা নতুন নামে ছাত্রসমাজের সামনে হাজির হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পুরোনো নামের সঙ্গে অনেক স্মৃতি ও আবেগ জড়িয়ে থাকলেও সংগঠনের আদর্শ ও লক্ষ্যই আমাদের কাছে প্রধান। লক্ষ্য অভিমুখী সংগ্রামে অবিচল থাকার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে আমরা আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, আমাদের সংগঠনের নতুন নাম গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল। এটি লক্ষ্য-উদ্দেশ্যহীন বিমূর্ত আদর্শের কোনো ছাত্রসংগঠন নয়। অকপটে ও দ্বিধাহীন চিত্তে আমরা ঘোষণা করছি, আমাদের সংগঠনের দার্শনিক ভিত্তি সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ।’ লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘সমাজবিপ্লবের সহায়ক শক্তি হিসেবে ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল। ৩৭ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন চিন্তা ও উপলব্ধির ভিত্তিতে সংগঠন ও আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমরা সর্বাত্মক উদ্যোগ নেব।’

গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের পক্ষ থেকে তিন দফা ‘জরুরি দাবি’ জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। দাবিগুলো হলো স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হল-হোস্টেল খুলে দেওয়া, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে শিক্ষার্থীদের করোনাকালীন বেতন-ফি মওকুফ; মতপ্রকাশের কারণে হয়রানি-নিপীড়ন বন্ধ করা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হল-হোস্টেলগুলোয় একক দখলদারির অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর কোনো মোর্চায় গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল যাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সংগঠনের সভাপতি আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, ‘চিন্তাভাবনা ও আলোচনার ভিত্তিতে এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ ঠিক কী মতপার্থক্যের কারণে ছাত্র ফ্রন্ট ছাড়লেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আরিফ বলেন, ছাত্র ফ্রন্টে যান্ত্রিক আনুগত্যের সংস্কৃতি, জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ঘাটতিসহ কয়েকটি মতপার্থক্য তাঁরা চিহ্নিত করেছেন। ছাত্র ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাকালীন ঘোষণার সঙ্গে এগুলো সাংঘর্ষিক। মূলত, এ কারণেই তাঁরা পৃথক সংগঠন করছেন।

এদিকে এই ভাঙনের বিষয়ে বাসদ (মার্ক্সবাদী) সমর্থিত ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলছেন, যে কথা বলে তাঁরা (ছাত্র কাউন্সিল) ছাত্র ফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে গেলেন, তাঁদের এখন প্রমাণ করতে হবে যে তাঁরা উন্নততর গণতন্ত্রের চর্চা করেন এবং শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে পারেন। তিনি প্রথম আলোকে আরও বলেন, ‘বাসদের (মার্ক্সবাদী) ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্র ফ্রন্ট যখন অভিন্ন ছিল, তখন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন থেকে শুরু করে সংগঠন পরিচালনার সব পর্যায়ে সামর্থ্য ও মান অনুযায়ী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া ও বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি আমরা। তাঁরা (ছাত্র কাউন্সিল) আমাদের সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে মার্জ করতে পারেননি, তাই বেরিয়ে গেলেন। এখন তাঁদের ভিন্ন কর্মসূচি ও উন্নত গণতান্ত্রিক চিন্তাটা কেমন, তার পরিচয় তাঁরা নিশ্চয়ই শিক্ষার্থীদের সামনে রাখবেন।’

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন