বাংলাদেশে নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে সরকারকে অবশ্যই বিরোধীদের আলোচনায় ডাকতে হবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরতে হবে। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস তাদের সম্পাদকীয়তে এ কথা বলেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সম্পাদকীয়টির শিরোনাম ‘খাদের কিনারে বাংলাদেশ (বাংলাদেশ অন দ্য ব্রিংক)’।
পত্রিকাটি লিখেছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা চূড়ান্ত অবস্থায় পৌঁছেছে। এর জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিরোধী বিএনপি উভয় দলের অনমনীয় মনোভাবই দায়ী। এ অবস্থা থেকে ফিরতে দুই দল যদি এখনই পদক্ষেপ না নেয়, নিজেদের সহিংস অংশকে বিরত না রাখে এবং দেশের বিপন্ন গণতন্ত্রকে রক্ষায় কার্যকর সংলাপ শুরু না করে, তাহলে সহিংসতার যে ঢেউ দেশকে গ্রাস করা শুরু করেছে, তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল, বিএনপির নির্বাচন বর্জন, আওয়ামী লীগের অধিকাংশ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে পত্রিকাটি লিখেছে, এসবের ফলে বিএনপি মূলধারার রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ে। আর তারা ও তাদের শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর সহিংস বিক্ষোভের ঘটনা বেড়ে যায়।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর মতে, এ অবস্থায় রাজনৈতিক সমঝোতার পথে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বিরোধীদের নিষ্ক্রিয় করে ফেলার চেষ্টা করছেন বলেই মনে হচ্ছে। গত ৩ জানুয়ারি তাঁর সরকার বিএনপির নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তাঁর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আটকে রাখেন। এর প্রতিবাদে তিনি দেশজুড়ে হরতাল-অবরোধের ডাক দেন এবং তাঁর দলের কর্মীরা সহিংস আক্রমণের মাধ্যমে তা কার্যকর করার চেষ্টা করেন। এতে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৬৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। উল্টো দিকে, শেখ হাসিনার সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর শুরু করে কঠোর দমন-পীড়ন।
পত্রিকাটি লিখেছে, নাশকতাকারীদের যখন গ্রেপ্তার করে শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন, তখন শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থান শুধু নাশকতা উসকে দিচ্ছে। বিএনপিকেও তাদের এসব সহিংস কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে এবং দলটিকে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহিংসতার কৌশল পরিত্যাগ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন