default-image

সরকারি দলকে সর্বময় ক্ষমতা দিতে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান আইন-২০২০ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য একটাই, সরকারি দলকে সর্বময় ক্ষমতা দিয়ে দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনকে একটা ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত করা।

আজ সোমবার বিকেলে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অভিযোগ করেন। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানও উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, তাদের দায়িত্ব হয়ে গেছে সরকারের অ্যাজেন্ডাকে বাস্তবায়িত করা এবং নির্বাচন কমিশন গঠনের পর থেকে সেই কাজই করে যাচ্ছে তারা। উপরন্তু তারা আইন করে বিভিন্নভাবে এই সরকারের যাদের কোনো ম্যান্ডেট নেই, তাদের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন পরিচালনার জন্য একক আইন প্রণয়নে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উদ্যোগকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে ইসি যেসব যুক্তি দিয়েছে, তা সঠিক তথ্যনির্ভর নয় এবং অত্যাবশ্যকীয়ও নয়।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন বলেছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন পরিচালনার জন্য আলাদা আইন নেই। সে কারণে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি একক আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রকৃত তথ্য হচ্ছে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ গঠন ও নির্বাচন–সংক্রান্ত আলাদা আলাদা আইন আছে এবং সেসব আইন অনুসারে উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তা ছাড়া তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদের জন্য তিনটি পৃথক আইন ও একটি পার্বত্য জেলা আঞ্চলিক পরিষদ আইনও বিদ্যমান রয়েছে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রস্তাবিত আইনে অনেক মৌলিক বিধানই নির্বাচন কমিশন বদলিয়ে ফেলেছে। তারা যে নতুন আইনের প্রস্তাব করেছে, সেই আইনের একটা বড় অংশ… ধারা ৬৬ থেকে আরম্ভ করে প্রায় ৮৪ পর্যন্ত—এর কোনোটাই স্থানীয় সরকারের প্রচলিত যেসব আইন রয়ে গেছে, তার কোনোটার মধ্যে নেই। এসব আছে বিধিমালার মধ্যে। কিন্তু প্রস্তাবে তো নির্বাচন কমিশন আগে বলেনি যে বিধিমালা থেকে এনে নতুন আইন করা হবে। কিন্তু বাস্তবে তারা সেটা করেছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, করোনার এই সময়ে কারও সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করে বা তাদের মতামত দেওয়ার সময় বা সুযোগ না রেখে কেবল ওয়েবসাইটে দিয়ে এই করোনার মধ্যে নতুন একটা আইন করতে হবে, এর কোনো অর্থ হয় না, এটা জরুরিও না। তিনি বলেন, এ আইন নিয়ে কারও দাবি নেই, আন্দোলন–সংগ্রাম নেই। যেটা নিয়ে কথাবার্তা নেই, তা নিয়ে তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

আগের দিন রোববার ইসির নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগের বিষয়ে ইসিকে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির ও আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল চিঠিটি ইসিতে পৌঁছান। তাতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন পরিচালনার জন্য অভিন্ন আইন প্রণয়নের বিরোধিতা করে বিএনপি তাদের মতামত তুলে ধরে।

ইসিকে দেওয়া চিঠিতে বিএনপি তাদের দাবির পক্ষে ১৩টি যুক্তি তুলে ধরে। তাতে ইসির উদ্যোগকে অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিক আখ্যায়িত করে ইসিকে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় একতরফাভাবে কোনো আইন করা হলে তা দেশবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না জানান বিএনপির মহাসচিব।

মন্তব্য পড়ুন 0