সরকারের কাছে খালেদার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি পরিবারের

বিজ্ঞাপন
default-image

সরকারের কাছে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তাঁর বোন সেলিমা ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

সেলিমা ইসলাম বলেন, ‘জামিন ছাড়া তাঁর উন্নত চিকিৎসা সম্ভব নয়। সরকারকে বলছি ওনার বয়স, শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে মুক্তি দেওয়া উচিত। সরকারের কাছে এটাই আবেদন করছি, তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হোক।’

এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সেলিমা ইসলাম বলেছিলেন, তাঁরা খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে বিশেষ আবেদনের কথা ভাবছেন। এ বিষয়ে আজ প্রশ্ন করা হলে সেলিমা ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখনো আবেদন করিনি। আমরা জাতির কাছে আবেদন করছি, আপনারা ওনার জন্য দোয়া করবেন এবং ওনার মুক্তি যেন হয়, সেই চেষ্টা আপনারা করবেন।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে সেলিমা ইসলাম বলেন, ‘তাঁর শরীর খুবই খারাপ। তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন, কথাই বলতে পারছেন না। উঠে দাঁড়াতে পারেন না। বাম হাত তো সম্পূর্ণভাবে বেঁকে গেছে। এখন ডান হাতটাও বেঁকে যাচ্ছে। খেলে বমি হচ্ছে। জ্বর আছে, গায়ে প্রচণ্ড ব্যথা। গায়ে হাত দিলেই চিৎকার করছে। মানবিক দিক চিন্তা করে ওনার মুক্তি দাবি করছি আমরা। ওনার শরীর এত খারাপ যে এই মুহূর্তে ওনার উন্নত চিকিৎসা দেওয়া না হলে কী হবে তা আমরা বলতে পারছি না।’

এক প্রশ্নের জবাবে সেলিমা ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। দুই বছর তিনি বন্দী। যে অবস্থায় এসেছিলেন, এখন সেই অবস্থায় নেই। খালেদা জিয়া হাঁটাচলা করতেন। এখন তিনি পাঁচ মিনিটও দাঁড়াতে পারেন না। খালেদা জিয়ার বোন জানান, বিছানা থেকে টয়লেটের দূরত্ব দুই–তিন হাত হলেও ওইটুকু পথ যেতে তাঁর ২০ মিনিট সময় লাগে। এই অবস্থায় খালেদার উন্নত চিকিৎসা খুবই প্রয়োজন। এখানে চিকিৎসকেরা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, তাতে তাঁর উন্নতি হচ্ছে না। মানবিক দিকে বিবেচনা করে খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান সেলিমা ইসলাম।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া পরিবারের অন্য সদস্যরা হলেন তাঁর ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, ছেলে অভিক ইস্কান্দার, তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমানের বড় বোন শাহিনা জামান খান ও আরাফাত রহমান কোকোর শাশুড়ি ফাতেমা রেজা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন