default-image

সরকারের পতন ঘটানো ছাড়া গণতন্ত্র পুনর্বাসিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, সরকারের পতন ঘটাতে হবে। গণতন্ত্র যেখানে থাকে না, সেখানে ‍সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অধিকারহীন হয়। সে সাংবাদিক হোক, আর অন্য কিছু হোক।

আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে  বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে গয়েশ্বর চন্দ্র এ কথা বলেন। কারাবন্দী সম্পাদক আবুল আসাদ, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী, ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলামসহ আটক সাংবাদিকদের মুক্তি ও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচারের দাবিতে এই অনশন হয়।

সাংবাদিক সমাজের বিভক্তির প্রসঙ্গ টেনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আজকে পেশাগত কারণে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার। কিন্তু আমরা দেখছি, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যতটা বিরোধ, সাংবাদিকদের মধ্যেও প্রাতিষ্ঠানিক বিরোধ খুব বেশি।

সেই কারণে যে যেই মতেরই হোক না কেন, তাঁর ওপর যখন নির্যাতন আসে, তখন সাংবাদিকেরা এক সুরে কথা বলতে পারেন না। না বলার কারণে অত্যাচারের স্টিমরোলারটা সাংবাদিকদের ওপরে যত্রতত্র হচ্ছে। এমনকি দৈহিক নির্যাতন এবং হত্যা-খুনের শিকারও হচ্ছেন।’

বিজ্ঞাপন

গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘সাগর-রুনির ঘটনায় তো অনেক কিছু হওয়ার কথা। আমরা দেখলাম, সাগর-রুনির ঘটনার প্রতিবাদ করতে ক্ষতিপূরণ বাবদ ... একজন নেতা হয়তো পুরস্কৃত হয়েছেন। এই পুরস্কারের মধ্যে যদি সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নীরব হয়ে যায়, তাহলে তো হত্যাকাণ্ড চলবে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান হয়তো রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে আমাদের বিপরীতমুখী। তারপরও তিনি একজন সম্পাদক, তাঁর বিরুদ্ধেও মামলা হয়। অন্যান্য সংবাদপত্রের যাঁরা সম্পাদক আছেন, তাঁরা কি তার প্রতিবাদে রাস্তায় নামছেন? নামেননি। একজন সাংবাদিকের ওপরে আঘাত এলে সব সংবাদপত্রের সাংবাদিক যদি একসঙ্গে হন, তাহলে আঘাত করতে সরকার ভয় পায়।’

বিএফইউজের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, ‘সরকারের পতন ছাড়া সংবাদপত্রসহ কোনো কিছুই স্বাধীন হবে না, গণতন্ত্র আর ফিরবে না। কারাবন্দী সাংবাদিকদের মুক্তির দাবির আন্দোলনকে আমরা জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের সঙ্গে একীভূত করতে চাই। আমাদের এই আন্দোলন শুধু আমাদের অধিকারের জন্য নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বন্দী, সরকারের নির্যাতনে তারা আক্রান্ত।’

বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘১২ বছর ধরে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের জন্য অন্ধকার যুগ, জাহেলিয়াতের যুগ চলছে। গত এক যুগে ৪১ জন সাংবাদিককে খুন করা হয়েছে। আমরা কোনোটার বিচার পাইনি। একে একে আমাদের সংবাদপত্রগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে । এভাবে দেশ চলতে পারে না। এর বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

সাংবাদিক শফিউল আলম ও আল আমিনের পরিচালনায় অনশনে দৈনিক ‘নয়া দিগন্ত’-এর সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, বিএফইউজের মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজের নেতা বাকের হোসাইন, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান, বিএনপির নেতা শামীমুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন