বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১৪ ও ২০১৮ সালে পরপর দুটি সংসদে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি মিলেমিশে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দল দুটির এই মিত্রতা রাজনীতিতে পুরোনো এবং প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু ৮-৯ মাস ধরে জাপার নেতারা সরকারের দোষত্রুটি নিয়ে কথা বলছেন। সম্প্রতি জাপার নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দুর্নীতি, রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসনের অভাব, বিচারহীনতা নিয়ে শক্ত বক্তব্য দিচ্ছেন, যা সরকারি দল আওয়ামী লীগের জন্য অস্বস্তির কারণ হওয়ার কথা। তবে জাপার উচ্চপর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা এখন পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দল বা সরকারি কোনো মহল থেকে সরাসরি নেতিবাচক কোনো প্রতিক্রিয়া পাননি এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাপার মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানুষের জীবন-জীবিকা, দুর্ভোগ-দুর্দশা, দুর্নীতি নিয়ে কথা বলা বিরোধী দলের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ জন্য আমাদের সংসদ সদস্যরা বেতন-ভাতা পান। আমরা যদি এ দায়িত্ব পালন না করি, তা হবে সংবিধানের লঙ্ঘন।’

জাপার নেতারা কিছু কিছু ক্ষেত্রে মুখে সরকারের বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁরা সরকারি দলের পক্ষেই থাকছেন। সংসদের কার্যক্রম নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কাগজে-কলমে (দশম ও একাদশ সংসদ) বিরোধী দলকে কার্যকর ভূমিকায় দেখা যাবে। কিন্তু আদতে এই সংসদ ছিল সমঝোতার।

জাপার নেতারা মূলত গত বছরের অক্টোবর-নভেম্বর থেকে সরকারের ভুলত্রুটি নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেন। এখন সমালোচনা আরও জোরদার হয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, ২০২৩ সালের সংসদ নির্বাচন ২০১৪ বা ২০১৮ সালের মতো হবে না। আগামী নির্বাচন ঘিরে রাজনীতির মাঠে অনেক কিছুই ঘটতে পারে। তাই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মনোযোগ আগামী সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক। এ কারণে এখন থেকে দলের সব পরিকল্পনা ও তৎপরতা হবে আগামী নির্বাচন সামনে রেখে।

জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা জনমত তৈরির কাজ করছি। আমরা যে সরকারের সঙ্গে নেই, তা জনগণের কাছে স্পষ্ট করছি। আমরা মনে করি, দেশের যে পরিস্থিতি, তাতে অপজিশনের ইমেজ তৈরি হলে একটা মেরুকরণ হবে। তখন বিএনপিরও আজকের এ অবস্থা থাকবে না।’

এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর জাপার রাজনৈতিক অবস্থান ও নেতৃত্বের কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এরশাদ-পরবর্তী জাপা খুব বদলায়নি। দল চলছে এরশাদেরই ছোট ভাই জি এম কাদেরের নেতৃত্বে। অভ্যন্তরীণ ঝড়ঝাপটা থাকলেও দলে জি এম কাদেরের নেতৃত্ব এখন অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত। এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হলেও দুই দায়িত্বেই তিনি নিষ্ক্রিয়। অসুস্থতার কারণে এবারের বাজেট অধিবেশনেও অংশ নিতে পারেননি।

রওশন এরশাদের বিষয়ে তাঁর ছেলে রাহগীর আল মাহির সাদ এরশাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আম্মার বয়স হয়েছে, এটাই সমস্যা। বাজেট অধিবেশনে উনি যেতে পারেননি, তখন তিনি হাসপাতালে ছিলেন।’

জাপা সূত্র জানায়, দলটির নেতারা মনে করছেন, গত দুটি জাতীয় নির্বাচন যেভাবে হয়েছে আগামী নির্বাচনে সেভাবে হওয়ার সম্ভাবনা কম। আগামী নির্বাচনে সরকারি দলের কৌশল কী হবে, তা এখনো কোনো ধারণা পাচ্ছেন না জাপার নেতারা। তবে তাঁরা এটা উপলব্ধি করছেন যে সরকার ২০২৩ সালের নির্বাচন সামনে রেখে কৌশল ঠিক করছে এবং সেভাবে প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। এই অবস্থায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সব মনোযোগ আগামী সংসদ নির্বাচন ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক মেরুকরণ নিয়ে। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনে বিএনপির অবস্থান এবং দলটির বিষয়ে সরকারের কৌশল কী হবে, সেটা জানা-বোঝার চেষ্টা করছে জাপা। এ জন্য ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে সামনে রেখে সরকারের সঙ্গে একটা দূরত্ব দেখাতে জাপা নেতাদের সমালোচনা দিন দিন বাড়ছে।

অবশ্য জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদের প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা জনগণের কাছে থাকতে চাই। আমরা চাই মানুষ খেয়ে-পরে সুখে-শান্তিতে থাকুক। দল বাঁচাতে হলে সত্য কথাগুলো বলতে হবে, মানুষের পাশে থাকতে হবে। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি এবং বাস্তব কথাগুলোই বলার চেষ্টা করছি। তবে যতটুকু করার দরকার, এর চেয়ে বেশি করা এই মুহূর্তে সম্ভব না।’

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন