সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করে যাচ্ছে বিএনপি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। আমরা এমন একটি সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই, যে সরকারের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকবে না। এ জন্য সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করে যাচ্ছে বিএনপি।’
আজ শুক্রবার দুপুরে ফরিদপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মওদুদ। ফরিদপুর শহরতলির অম্বিকাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের বাড়িপ্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমরা সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করতে চাই বলেই গত দুই বছরে আমরা এমন কোনো কর্মসূচি দিইনি, যাতে বিব্রত হতে পারে সরকার।’ তবে বর্তমান সরকার যদি সত্যিকারের গণতন্ত্র চর্চা করে ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করে, তাহলে তারা এগিয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মওদুদ।
‘আমরা সংঘাত ছাড়া সমাধান চাই’ মন্তব্য করে মওদুদ বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। সরকার যদি সমঝোতা না চায় তাহলে আমরা বুঝে নেব সরকার যে লুট করেছে, দুর্নীতি করেছে, তার জন্য ক্ষমতায় না থাকলে তাদের জবাবদিহির সম্মুখীন হতে হবে বলে ভয় পাচ্ছে। দেশের সরকারি ব্যাংকগুলো শেষ হয়ে গেছে, শেয়ারবাজার ধ্বংস হয়ে গেছে, বড় বড় প্রকল্পের নামে বড় বড় ঘুষ লেনদেন হচ্ছে।
‘এই সরকারের কোনো জবাবদিহি নেই’ অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশে অবাধে হত্যা, লুট ও ধর্ষণ চলছে। ধর্ষণের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীর নাম উঠে আসছে। জবাবদিহি নেই বলেই এই সরকার ও তার নেতা-কর্মীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
মওদুদ বলেন, ‘শুভর প্রত্যাশায় সমঝোতার জন্য শেষ দিন পর্যন্ত আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব। তারপরও যদি সরকারের বোধোদয় না হয়, তাহলে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। ফেনীতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনাকে ন্যক্কারজনক আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘হাজার বাধা আসুক, আমাদের নেত্রীর বহরে যত হামলাই হোক না কেন, আমরা এগিয়ে যাব। আমাদের নেত্রী সারা দেশ সফরে বের হবেন।’
মওদুদ আহমদ আরও বলেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে আর বাংলাদেশে নির্বাচন হবে না। আমরা ভোট ও ব্যালটে বিশ্বাস করি, বুলেটে নয়। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। তবে ১৯৭৯ সালে বিএনপি সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছিল। সে নির্বাচনে বিরোধী দলের এমন কোনো বড় নেতা ছিলেন না যে বিজয়ী হননি। সবুর খান, আতাউর রহমান, তোহায়া, আবদুর রহিমের মতো নেতারা বিজয়ী হয়েছিলেন।
‘রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের রেকর্ড খুব খারাপ’ অভিযোগ করে মওদুদ বলেন, ১৯৭০ সালে এ দেশের ৯৯ ভাগ মানুষ এ দলকে সমর্থন দিয়েছিল। স্বাধীনতার পর এ দল একটি ভালো সংবিধান উপহার দিয়েছিল। কিন্তু ’৭৩-এর নির্বাচনের পর থেকে সব ওলট-পালট হয়ে যায়।
মওদুদ আহমদ এর আগে আমান মওদুদ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিশুদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় আনসার উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু জাফর শেখ।