default-image

হরতাল-অবরোধে সহিংসতা বন্ধ এবং আলোচনা শুরুর উদ্যোগ সমান্তরালভাবেই নিতে হবে। আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘উদ্বিগ্ন নাগরিকদের পক্ষে’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ টি এম শামসুল হুদা এ কথা জানান। তিনি বলেন, তাঁরা মনে করেন, সহিংসতা বন্ধ ও আলোচনা শুরুর উদ্যোগ সমান্তরালভাবেই নিতে হবে।

সেটা কীভাবে সম্ভব, কোন পক্ষের আগে ঘোষণা দেওয়া উচিত? সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক সিইসি বলেন, ‘কে কীভাবে কী করবেন, তা রাজনীতিকদেরই নির্ধারণ করতে দেওয়া উচিত। তবে সংবিধানের রক্ষক ও রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতি উদ্যোগ নেবেন বলে আমাদের আশা।’
এ ছাড়া রাজনৈতিক সংকট স্থায়ীভাবে সমাধানে নাগরিক সমাজের এ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ টি এম শামসুল হুদাকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান, এ এস এম শাহজাহান, জামিলুর রেজা চৌধুরী, আকবর আলি খান, সি এম শফি সামি, রাশেদা কে চৌধূরী ও রোকিয়া আফজাল রহমান, লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, আইনজীবী শাহদীন মালিক, পোশাকশিল্প মালিক আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ, গবেষক-অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ কমিটিতে আরও কয়েকজন সদস্য যুক্ত হবেন। তাঁদের সম্মতি নিয়ে পরে তাঁদের নাম ঘোষণা করা হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত কাউকে এ কমিটিতে রাখা হচ্ছে না।
এর আগে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে চিঠি পাঠিয়ে চলমান সহিংসতা বন্ধ করে সংকট নিরসনে সংলাপের উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছিল।
ওই চিঠি পাঠানোর পর সরকারদলীয় নেতারা নাগরিক সমাজের কড়া সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিরোধী জোটের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। আর বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এম হাফিজউদ্দিন খান, সি এম শফি সামি, বদিউল আলম মজুমদার, শাহদীন মালিক, আহসান এইচ মনসুর প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন