বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্মরণসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘(অসহনীয় অবস্থা থেকে মুক্তির) একমাত্র পথ হচ্ছে, এদের (বর্তমান সরকার) সরিয়ে দিয়ে সত্যিকার অর্থেই একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। আসুন, আমরা সেই লক্ষ্যে সবাই ঐক্যবদ্ধ হই, সবাই রাজপথে নেমে আসি।’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের দুর্দশার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একদিকে জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে। অন্যদিকে হঠাৎ একলাফে প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে দিল ডিজেল-কেরোসিনের দাম। ফলে আরও দ্বিগুণ বাড়বে দ্রব্যমূল্য। এখন সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? তাদের তো এখন না খেয়ে অপুষ্টিতে মৃত্যুবরণ করার মতো অবস্থা হয়ে গেছে।’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘গত ৭ মাসে ৮৪ জন নিহত হয়েছেন এবং সব তাদের (ক্ষমতাসীন দল) লোক। তারা নিজেরা নিজেরা এখন মারামারি করে। কারণ, বিরোধী দল তো নাই। আজকে তারা লুট করে, নিজেরা মারামারি করে এবং নিজেদের মধ্যেই সমস্যা তৈরি করছে। আর মামলা দেয় বিএনপির নামে।’

স্মরণসভায় বক্তব্য দেতে গিয়ে নেতা-কর্মীদের বিশৃঙ্খলায় চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। হট্টগোল দেখে তিনি বলেন, ‘আমরা কেন এ রকম সভায় আসি, সেটা বোধ হয় আমরা নিজেরাও জানি না। এটা একটা স্মরণসভা এবং এমন একজন নেতার স্মরণসভা, যিনি আমাদের অতীতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, পথ দেখিয়েছেন এবং সারাটা জীবন লড়াই করেছেন।’

একপর্যায়ে বিএনপির মহাসচিব ক্ষুব্ধ হয়ে ডায়াস থেকে চলে গিয়ে নিজের আসনে বসে পড়েন। এ পর্যায়ে মিলনায়তন নীরব হলে আবার তিনি ডায়াসে ফিরে বক্তব্য দেন।

স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা নিতাই রায় চৌধুরী, আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, জয়ন্তু কুমার কুণ্ড, যুবদলের সাইফুল আলম, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদির ভূঁইয়া, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান প্রমুখ।

এ সময় তরিকুল ইসলামের ছোট ছেলে বিএনপির সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ যশোর-খুলনার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন