সারিয়াকান্দিতে ধানের শীষ প্রার্থীর প্রচারণায় হামলার অভিযোগ

বিজ্ঞাপন
default-image

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের উপনির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বিএনপির প্রার্থীর প্রচারণায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতৃত্বে দুটি স্থানে হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় কেন্দ্রীয় তাঁতি দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদসহ বিএনপির অন্তত পাঁচজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের চান্দিনার নোয়াপাড়া এবং তাজুরপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির।

এ ঘটনার জেরে বেলা দুইটার দিকে ধানের শীষের কর্মীরা বাবুল নামের একজন নৌকার সমর্থকের মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং অন্য একজনের খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একজন সাংবাদিকের মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়েছে। উভয় পক্ষে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল আমিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির প্রার্থীর বহরের একটি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।

আহসানুল তৈয়ব প্রথম আলোর কাছে অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছিলেন। এ সময় সারিয়াকান্দি উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিক আহম্মেদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহান সাগরের নেতৃত্বে নৌকার সমর্থকেরা চান্দিনার নোয়ারপাড়া এবং তাজুরপাড়ায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালান। কেন্দ্রীয় নেতাদের বহনকারী তিন থেকে চারটি মাইক্রোবাসসহ ৮-১০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ সময় নৌকার সমর্থকেরা তাঁকেও প্রাণনাশের চেষ্টা চালালে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে রক্ষা করেন বলে আহসানুল তৈয়ব দাবি করেন।

হামলায় আহত অন্যরা হলেন হাটশেরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহিন রেজা, চন্দনবাইশা ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী আলেফ উদ্দিন এবং হাটশেরপুর ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী নয়ন।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে হাটশেরপুর ইউনিয়ন থেকে ৫টি মাইক্রোবাসসহ বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে ধানের শীষের প্রচারণা শুরু করা হয়। এতে ধানের শীষের প্রার্থী আহসানুল তৈয়ব ছাড়াও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় তাঁতি দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সারিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা অংশ নেন। বিএনপির নেতাদের গাড়িবহর চান্দিনার নোয়াপাড়া পৌঁছালে নৌকার কর্মী-সমর্থকেরা লাঠিসোঁটা হাতে হামলা চালান। প্রায় একই সময়ে তাজুরপাড়া এলাকায় ধানের শীষের প্রচারে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। পরে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

default-image

অন্যদিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পারতিতপরল এলাকায় নৌকার সমর্থকেরা ধানের শীষের পোস্টারে আগুন ধরিয়ে দেন। আবদুস সালাম নামের স্থানীয় এক সাংবাদিক অগ্নিসংযোগের চিত্র ধারণ করায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ছবি মুছে দেওয়ার পর ওই সাংবাদিকের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। সাংবাদিক আবদুস সালাম বলেন, এ ঘটনার পর তিনি আতঙ্কে রয়েছেন।

ধানের শীষের প্রচারণায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, সকাল থেকে নৌকার প্রার্থী সাহাদারা মান্নানকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা সারিয়াকান্দি উপজেলার অন্য ইউনিয়নে গণসংযোগ করছেন। ধানের শীষের প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ সত্য নয়।

উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিক আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ সঠিক নয়। তা ছাড়া সেখানে তিনি উপস্থিতও ছিলাম না। যত দূর জেনেছেন, নৌকার সমর্থনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা গণসংযোগে বের হলে তাজুরপাড়া এলাকায় বিএনপির প্রার্থী আহসানুল তৈয়বের নেতৃত্বে ধানের শীষের প্রচারণায় অংশ নেওয়া লোকজন সারিয়াকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহজাহান কবির টুটুলের ওপর হামলা করেন এবং তাঁর মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। অন্যদিকে চান্দিনার নোয়াপাড়া এলাকায় বিএনপির প্রচারবহরের একটি গাড়ি তুলে দেওয়া হয় নৌকার গণসংযোগে বের হওয়া ছাত্রলীগের এক নেতার ওপর। এ নিয়ে উভয় স্থানেই বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। কোনো হামলা, ভাঙচুর হয়নি।

এর আগে ১১ মার্চ সোনাতলা উপজেলার হাটকরমজা বাজারে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে ধানের শীষের গণসংযোগ ও পথসভায় ককটেল হামলা, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোনাতলা থানার জোড়গাছা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল ইসলাম বাদী হয়ে নৌকার ৯৩ কর্মী-সমর্থকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

একই ঘটনায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ককটেল হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগ এনে জোড়গাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মোমিন বাদী হয়ে বিএনপির ৮১ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ জনকে আসামি করে সোনাতলা থানায় পৃথক আরেকটি মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন