default-image

ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার পেছনে দলের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা ও সরকার জড়িত নয়—এমন বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। আজ সোমবার বেলা তিনটার দিকে প্রতিনিধি পাঠিয়ে দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জবাব পাঠিয়েছেন তিনি।
এর আগে মির্জা আব্বাসের এমন বক্তব্যের জবাব চেয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে ২২ এপ্রিল একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

বিএনপির দপ্তরের দায়িত্ব থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স প্রথম আলোকে বলেন, বিকেলে চিঠি পাওয়ার পর তিনি ওই চিঠি দলের মহাসচিবের কাছে দিয়েছেন। মির্জা আব্বাস তাঁর জবাবে কী বলতে চেয়েছেন—এমন প্রশ্নে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, চিঠিটি বন্ধ খামে ছিল। এটি খুলে দেখেননি তিনি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ওই বক্তব্যের পরদিন শাহজাহানপুরের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন মির্জা আব্বাস, চিঠির জবাবেও কাছাকাছি বক্তব্যই ছিল। এ ছাড়া ভার্চ্যুয়াল যে অনুষ্ঠানে মির্জা আব্বাস বক্তব্য দিয়েছিলেন, ওই অনুষ্ঠানে সময় স্বল্পতার কারণে পুরো বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করতে পারেননি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন মির্জা আব্বাস।

বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে মুঠোফোনে মির্জা আব্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের কাছে জবাব দিয়েছি। এখন তাঁরা বিষয়টি দেখবেন। এর বাইরে আর কিছু বলতে পারব না। এ বিষয়ে যদি কথা বলতে চান তাঁরা (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মহাসচিব) বলবেন।’ পরে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এর আগে ইলিয়াস আলীর স্মরণে এবং খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ১৭ এপ্রিল ভার্চ্যুয়াল এক আলোচনা সভায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশে করে মির্জা আব্বাস বলেছিলেন, ‘ইলিয়াস আলী গুমের পেছনে আমাদের দলের যে বদমাশগুলো রয়েছে, তাদেরকেও চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করেন প্লিজ। এদেরকে অনেকেই চেনেন।’

ইলিয়াস আলীর গুম হওয়া প্রসঙ্গে দলের মহাসচিবের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস আরও বলেন, ‘ইলিয়াস গুম হওয়ার আগের রাতে দলীয় অফিসে কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা হয় মারাত্মক রকমের। ইলিয়াস খুব গালিগালাজ করেছিলেন তাঁকে। সেই যে পেছন থেকে দংশন করা সাপগুলো, আমার দলে এখনো রয়ে গেছে। যদি এদের দল থেকে বিতাড়িত না করেন, তাহলে কোনো পরিস্থিতিতেই দল সামনে এগোতে পারবে না।’

মির্জা আব্বাস আরও বলেন, ‘আমি জানি আওয়ামী লীগ সরকার গুম করেনি। তাহলে গুমটা করল কে? এই সরকারের কাছে এটা আমি জানতে চাই। একজন জলজ্যান্ত তাজা রাজনৈতিক নেতা গুম হয়ে গেল দেশের অভ্যন্তর থেকে। আমাদের একজন নেতাকে দেশ থেকে পাচার করে নিয়ে গেল, সালাউদ্দিনকে। আমাদের চৌধুরী আলমকে গুম করে দেওয়া হলো। আমাদের কত ছেলেদের গুম করে দেওয়া হলো, বুঝলাম এই সরকার করে নাই। করল কারা? যারা করল, তাদের কি বিচার হতে পারে না? যারা করেছে, তারা এই দেশের স্বাধীনতা চায় নাই? তারা স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব দেশে থাকতে দেবে না।’

মির্জা আব্বাসের এমন বক্তব্যের পর দলের মধ্যেই ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরদিন বক্তব্যের বিষয়টি স্পষ্ট করতে শাহজাহানপুরের বাসায় সংবাদ সম্মেলন ডাকেন মির্জা আব্বাস। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার কথাকে বিকৃত করা হয়েছে। আমার সহজ–সরল মনের সরল উক্তিগুলোকে বিকৃত করে যার যেখান থেকে প্রয়োজন কেটেছিঁড়ে ইচ্ছেমতো লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন